মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডে কোটিপতি হওয়ার সহজ হদিস
নিজস্ব প্রতিনিধি: সঞ্চয়ের অভ্যেস আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু সঠিক জায়গায় সঠিক নিয়মে বিনিয়োগ না করার কারণে সেই জমানো টাকা সময়ের সাথে সাথে তার প্রকৃত মূল্য হারিয়ে ফেলে। সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের মনে প্রায়শই একটি প্রশ্ন জাগে— প্রতি মাসে সামান্য কিছু টাকা বাঁচিয়ে কি ভবিষ্যতে কোটিপতি হওয়া সম্ভব? আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরটি হলো ‘হ্যাঁ’। যদি কোনো ব্যক্তি প্রতি মাসে মাত্র ৫০০ টাকা করে অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে অর্থাৎ ৫০ বছরের জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি (SIP)-র মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন, তবে অবসরের বয়সে তাঁর হাতে আসতে পারে প্রায় ২ কোটি থেকে ৭ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশাল এক ফান্ড।
কম্পাউন্ডিং বা চক্রবৃদ্ধির ম্যাজিক:
মিউচুয়াল ফান্ডে এত দীর্ঘ সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ তৈরির মূল চাবিকাঠি হলো ‘পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং’ বা চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুকরী শক্তি। সাধারণ ব্যাঙ্কের সুদের তুলনায় মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন অনেক বেশি হয়। এখানে বিনিয়োগকারী তাঁর বিনিয়োগের লভ্যাংশের ওপর পুনরায় লাভ পেতে থাকেন। সময় যত বাড়ে, ফান্ডের বৃদ্ধির গতিও তত রকেটের মতো ত্বরান্বিত হয়। প্রথম ২০ বা ৩০ বছরে ফান্ডটি যেভাবে বাড়ে, শেষ ১০ বছরে (অর্থাৎ ৪০ থেকে ৫০ বছরের মাথায়) জমানো টাকার পরিমাণ অবিশ্বাস্য রূপ নেয়।
গাণিতিক হিসেব কী বলছে?
৫০ বছর বা ৬০০ মাসে ৫০০ টাকা করে বিনিয়োগ করলে একজন মানুষের পকেট থেকে মোট মূলধন জমা হবে মাত্র ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকা। ভারতের শেয়ার বাজার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের অতীত ইতিহাস খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, ভালো মানের ফান্ডগুলি দীর্ঘমেয়াদে গড়ে ১২% থেকে ১৫% পর্যন্ত বার্ষিক রিটার্ন (CAGR) অনায়াসেই দিয়ে থাকে। এই রিটার্নের হার অনুযায়ী ৫০ বছর পর ফান্ডের আনুমানিক চিত্রটি নিম্নরূপ হতে পারে:
• ১২% বার্ষিক রিটার্ন হারে: যদি ফান্ডটি গড়ে ১২ শতাংশ হারে রিটার্ন দেয়, তবে ৫০ বছর পর মোট ফান্ডের মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি৯৫ লক্ষ টাকা।
• ১৪% বার্ষিক রিটার্ন হারে: রিটার্ন সামান্য বেড়ে ১৪ শতাংশ হলে, ৫০ বছর শেষে বিনিয়োগকারীর হাতে আসবে প্রায় ৩ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা।
• ১৫% বার্ষিক রিটার্ন হারে: যদি ফান্ডটি চমৎকার পারফর্ম করে ১৫ শতাংশ হারে রিটার্ন দেয়, তবে ৩ লক্ষ টাকার মোট বিনিয়োগ ৫০ বছর পর রূপান্তরিত হবে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার এক বিশাল সাম্রাজ্যে।
আর্থিক উপদেষ্টাদের মতে, এই দীর্ঘ যাত্রায় সফল হতে গেলে তিনটি বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, সময়ের সাথে সাথে নিজের আয় বাড়লে বিনিয়োগের পরিমাণও প্রতি বছর সামান্য (যেমন ১০%) বাড়ানো উচিত, যাকে আর্থিক ভাষায় ‘টপ-আপ এসআইপি’ বলা হয়। এতে রিটার্নের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ৫০ বছরের মতো সুদীর্ঘ মেয়াদের জন্য লার্জ-ক্যাপ ফান্ডের তুলনায় ‘ফ্লেক্সি-ক্যাপ’ বা ভালো মানের ‘স্মল-ক্যাপ’ মিউচুয়াল ফান্ড বেছে নেওয়া লাভজনক, কারণ দীর্ঘসময়ে এগুলি বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে বেশি রিটার্ন দিতে সক্ষম।
তবে মনে রাখতে হবে, মিউচুয়াল ফান্ড বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। তাই বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই একজন প্রত্যয়িত আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া সমীচীন। কিন্তু এ কথা হলফ করে বলা যায়, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে একটি দামি কফি বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাসিক সাবস্ক্রিপশনের খরচে (মাত্র ৫০০ টাকা) যদি কেউ নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে বিনিয়োগ শুরু করেন, তবে তাঁর আগামী প্রজন্ম বা নিজের ভবিষ্যৎ জীবন অনায়াসে সুরক্ষিত হতে পারে।

