বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
সঞ্চয়

বিনিয়োগের সঠিক সময়: বাজার ধরা বনাম বাজারে টিকে থাকা

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিনিয়োগের সঠিক সময়: বাজার ধরা বনাম বাজারে টিকে থাকা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

বিশেষ প্রতিনিধিঃ শেয়ার বাজারে সরাসরি স্টক কেনা হোক বা মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে পথ চলা—অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই একটি চিরন্তন দ্বন্দ্বে ভোগেন: "এখনই কি কেনার সঠিক সময়, নাকি আর একটু অপেক্ষা করা উচিত?" বাজার যখন পতনমুখী (Bear Market) হয়, তখন মনে হয় আরও পড়বে; আবার বাজার যখন ঊর্ধ্বমুখী (Bull Market) হয়, তখন ভয় লাগে বেশি দামে কিনে ফেলার। এই মানসিক টানাপোড়েনের কারণে অনেকেই "মার্কেট টাইমিং" (Market Timing) বা সঠিক সময় ধরার ভুল খেলায় মেতে ওঠেন।
 
বিনিয়োগের দুনিয়ায় একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কথা আছে—"Market-এ সঠিক সময় খোঁজার চেয়ে, Market-এ কতটা সময় ধরে টিকে আছেন, সেটাই আসল।" নিচে একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি বোঝা যাক।
ধরে নেওয়া যাক, রোহিত এবং বিরাট নামের দুজন বিনিয়োগকারী প্রতি বছর ১,২০,০০০ টাকা বাজারে বিনিয়োগ করেন।
•    রোহিতের কৌশল (মার্কেট টাইমার): তিনি সারা বছর অপেক্ষা করেন এবং বাজারের একদম সর্বনিম্ন বিন্দু (Bottom) ধরার চেষ্টা করেন।
•    বিরাটের কৌশল (নিয়মিত বিনিয়োগকারী/SIP): তিনি কোনো টাইমিং না করে প্রতি মাসে নিয়ম করে ১০,০০০ টাকা (বছরে ১,২০,০০০ টাকা) বাজারে ঢালেন।
দীর্ঘ ১০ বছরের সময়সীমায় দেখা যায়, রোহিত প্রতিবার একদম সঠিক সময়ে বিনিয়োগ করা সত্ত্বেও, বিরাটের নিয়মিত বিনিয়োগের (SIP) জমানো অর্থের পরিমাণ এবং রিটার্ন প্রায় সমান বা অনেক ক্ষেত্রে বেশি হয়। কারণ, বিরাট "রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং" (Rupee Cost Averaging)-এর সুবিধা পেয়েছেন—অর্থাৎ বাজার যখন পড়েছিল তখন তিনি বেশি ইউনিট পেয়েছেন, আর বাজার যখন চড়া ছিল তখন কম ইউনিট পেয়েছেন।

এই দ্বিধা কাটানোর ৩টি অমোঘ কৌশল
যদি আপনিও এই "কখন কিনব" চক্রে ফেঁসে থাকেন, তবে নিচের এই প্রমাণিত কৌশলগুলি অনুসরণ করতে পারেন:
•    এসআইপি (SIP) শুরু করুন: মিউচুয়াল ফান্ড বা ডাইরেক্ট ইক্যুইটিতে সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP) চালু করলে আপনার মাথা থেকে বাজার বাড়া-কমার চিন্তা দূর হয়ে যায়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় এবং সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া।
•    অ্যাসেট অ্যালোকেশন (Asset Allocation): আপনার সমস্ত টাকা একবারে শেয়ার বাজারে না খাটিয়ে কিছু অংশ ডেট ফান্ড, ফিক্সড ডিপোজিট বা সোনায় রাখুন। বাজার খুব বেশি চড়া মনে হলে ডেট ফান্ডে টাকা জমান, পরে বাজার পড়লে তা ইক্যুইটিতে ট্রান্সফার (STP) করুন।
•    লিপ্পার (Lump-sum) ক্ষেত্রে 'স্ট্যাগার্ড' নীতি: যদি আপনার কাছে এককালীন বড় অর্থ থাকে, তবে তা একদিনে বাজারে না ঢেলে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ভেঙে ভেঙে বিনিয়োগ করুন। এতে হঠাৎ বাজারের বড় পতনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
মার্কেট টাইমিং করতে গিয়ে বহু বিনিয়োগকারী ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন এবং শেষ পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়েন। নিজের আর্থিক লক্ষ্য এবং সময়সীমা (Time Horizon) স্থির রেখে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও সঞ্চয় খবর