বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বিদেশ

দুর্যোগের থাবায় অস্তিত্ব সংকটে গাইবান্ধার চরের একমাত্র হাইস্কুল

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬
দুর্যোগের থাবায় অস্তিত্ব সংকটে গাইবান্ধার চরের একমাত্র হাইস্কুল
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, গাইবান্ধা: "শহরের ছেলেমেয়েরা কত রকম প্রতিযোগিতায় যায়। আমাদেরও খুব ইচ্ছে করে গণিত অলিম্পিয়াডে যোগ দিতে। কিন্তু আমরা তো চরের বাসিন্দা!"— গলায় একরাশ আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিল ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা কুন্দেরপাড়া চরের এক পড়ুয়া। চোখে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন থাকলেও, ভাঙন আর দুর্যোগের জোড়া থাবায় আজ বিপন্ন তাদের চেনা চত্বর।

২০০৩ সালে পথ চলা শুরু করেছিল ‘কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি’। চরের একমাত্র এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি না থাকলে এলাকার সিংহভাগ ছেলেমেয়ের পড়াশোনা প্রাথমিক গণ্ডিতেই থমকে যেত। কারণ, মাধ্যমিক স্তরের জন্য প্রতিদিন নদী পেরিয়ে গাইবান্ধা শহরে যাওয়া চরের প্রান্তিক পরিবারের সন্তানদের পক্ষে একপ্রকার অসম্ভব।সাফল্যের খতিয়ান ও সংগ্রামের ইতিহাসএক সময় এই স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ৬০০-র গণ্ডির ওপরে। প্রতিকূলতাকে জয় করে এখান থেকে পাস করা ছাত্রছাত্রীরা জায়গা করে নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আজ অনেকেই প্রতিষ্ঠিত, কর্মরত সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদে। এমনকি চরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাও এই স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্রী।

কিন্তু গত কয়েক বছরে বারবার প্রকৃতির রোষ আছড়ে পড়েছে এই স্কুলের ওপর। একের পর এক বিপর্যয় তছনছ করে দিয়েছে চরের শিক্ষাঙ্গনকে:
২০১৫ সালে ভয়াবহ টর্নেডোর তাণ্ডব। ২০১৭ সালে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই গোটা স্কুল।২০২০ সালে ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে নদীগর্ভে বিলীন হয় মূল ভবন।
প্রতিবারই শূন্য থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২০ সালের ভাঙনের পর স্কুলটিকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় অন্য জায়গায়। কিন্তু ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে বহু পরিবার চর ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় হু হু করে কমছে পড়ুয়ার সংখ্যা। ফলে নতুন করে বাড়ছে স্কুলছুটের আশঙ্কা। চরের এই একমাত্র প্রদীপটি যাতে নিভে না যায়, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও বিদেশ খবর