বিদেশ
যুদ্ধ আবহে দিল্লিতে মোদী-পেজেস্কিয়ান বৈঠক, উদ্বিগ্ন ট্রাম্প
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মাঝেই ভারতের মাটিতে পা রাখলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান। তাঁর এই দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে আমেরিকার রক্তচাপ বাড়িয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সাক্ষাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নিশ্চিতভাবেই বড় উদ্বেগের কারণ।
কিন্তু রুদ্ধদ্বার কক্ষে ঠিক কী আলোচনা হল এই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে? এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, মোদী ও পেজেস্কিয়ানের বৈঠকে মূল ফোকাস ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। পশ্চিম এশিয়ার এই ভয়াবহ সংকটজনক প্রেক্ষাপটে মোদী স্পষ্ট ভাষায় ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি সাফ জানান, এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি। কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই যে কোনও সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষ করে সমুদ্রপথে বাণিজ্য সচল রাখা এবং হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। কারণ, এই পথে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ধাক্কা খাবে, যা ভারতের অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের।
অন্য দিকে, প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান ভারতকে এক বিশ্বস্ত বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ওয়াশিংটনের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্রিকসের মতো মঞ্চ যে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, সেই বার্তাও দেন তিনি। আমেরিকার চোখরাঙানি উপেক্ষা করে নয়াদিল্লির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বিশ্বমঞ্চে ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতিরই পরিচয় দিচ্ছে। এখন দেখার, দিল্লির এই বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস তথা ট্রাম্প প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে।

