আমার পূর্ণতার আদর্শ
পরমপূজ্যপাদ স্বামী ভূতেশানন্দজী মহারাজ বলছেন - ভগবানকে আমরা কি করে জানবো? তার উত্তরে সাধুরা বলেন, চিদাকাশে যার যা ভাসে তাই তার বোধের সীমানা। মানুষের বুদ্ধিতে কোন তত্ত্ব যতোটুকু প্রতিভাত হয় ততটুকুই সে বুঝতে পারে। আমাদের হৃদয়েমুকুরে ভগবানের যে প্রতিচ্ছবি আমরা ধারণা করছি সেই প্রতিচ্ছবির ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষ যখন তাঁকে ধারণা করে তার মানবিক বুদ্ধিমতো ধারণা করে। অসীম অনন্ত নির্বিশেষ নিরাকার নির্গুণ এ কথাগুলির ধারণা মানুষ করতে পারে না, সে কখনো এমন বস্তু দেখেনি। মানুষের দৃষ্টি সীমিত। কল্পনা আর একটু দূরে যায় কিন্তু তাও সীমিত। ভগবান সীমিত নন। তাই তাঁকে যখন সর্বব্যাপী অনন্ত ইত্যাদি বলি তার মানে আমাদের মন বুদ্ধি তা অতিক্রম করে যায়। মন দিয়ে যাকে ধারণা করা যায় না, তাকে বুদ্ধি বা ইন্দ্রিয় দিয়ে ধারণা করা সম্ভব নয়। সমগ্র জগতের যিনি ধাত্রী আমরা সেই জগজ্জননীকে শিশুর মত ছোট্ট দুটি হাত দিয়ে ধরতে চেষ্টা করছি। ওই দুটি ছোট হাতই যে শিশুর সম্বল, তাই দিয়ে সে মাকে ধরতে গেলে দোষ দেওয়া যায় না। ভক্তও তেমনি বুদ্ধির অগম্য যে ভগবান তাঁকে সে বুদ্ধিগ্ৰাহ্য করে ছোট দুটি অপুষ্ট দুর্বল হাত দিয়ে ধরতে যায়। এই প্রয়াস নিষ্ফল, তবু হাস্যকর বলা যায় কি? যেহেতু মন ভিন্ন ভিন্ন, ধারণাও ভিন্ন ভিন্ন। স্বামীজী বলেছিলেন, আমাদের দেবতা তেত্রিশ কোটি কিন্তু তাও যথেষ্ট নয়। প্রত্যেকের জন্য একটি করে দেবতা হলে আমি খুশি হব। দেবতা মানে পূর্ণতার আদর্শ। আমার পূর্ণতার আদর্শ যেখানে রূপ নিয়েছে সেটি আমার দেবতা।

