বম দিনে বাহুড়া যাত্রা
আজ নবম দিনে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের "বাহুড়া যাত্রা" অর্থাৎ উল্টোরথ। সেদিন বলভদ্র ও সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে জগন্নাথদেব আবার গুণ্ডিচা মন্দির থেকে বড় মন্দিরে রওনা হন। প্রবাদ আছে যে, জগন্নাথদেব মাসির বাড়ি (জগন্নাথদেবের পাতানো মাসি মহারানি গুণ্ডিচাদেবী) আসেন পোড়া পিঠে খেতে। রথযাত্রার সময় জগন্নাথ দেব যে সাত দিন গন্ডিচা মন্দিরে অবস্থান করেন প্রতিদিন আড়াই মণ করে ঘি, চিনি, ছানা ও চালের গুঁড়ো দিয়ে চাকার মতো বিরাট তিনটি পিঠে তৈরি করা হয়। অন্যান্য ভোগের সঙ্গে এই পিঠেগুলিও জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রা কে নিবেদন করা হয়। অনেকে বলেন চোড়গঙ্গদেবের রানির নাম ছিল গোণ্ডচোর। এই নামেরই অপভ্রংশ গুণ্ডিচা। এই পুনর্যাত্রার দিন মহাপ্রভু প্রচণ্ড দুঃখ অনুভব করতেন। কারণ মহাপ্রভুর অনুভবে গুণ্ডিচা ছিল শ্রীরাধার কুঞ্জবন। আর সেই কুঞ্জবন ছেড়ে জগন্নাথদেব অর্থাৎ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ আবার দ্বারকায় (জগন্নাথ মন্দিরে) ফিরে যাচ্ছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, শ্রীজগন্নাথদেব যে কয়দিন গুণ্ডিচা মন্দিরে অবস্থান করেন, সেই সময়ে পুরীবাসী সাধু সন্ন্যাসী, ত্যাগী মহাত্মারাও তাঁর সঙ্গে এসে গুণ্ডিচামন্দিরের আশেপাশে প্রভুর সন্নিকটে বাস করেন। ধনী সজ্জন ব্যক্তিগণ সেখানে তাদের অবস্থান করার সুব্যবস্থা করে দেন।। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবও তাঁর পার্ষদদের নিয়ে এই কয়দিন "জগন্নাথ বল্লভ" নামক নিকটবর্তী বাগানে অবস্থান করে নিত্য শ্রীজগন্নাথ দর্শন, নরেন্দ্র সরোবরে স্নান, ভজন কীর্তন ও ধ্যানধারণাতে কাটাতেন। পুনর্যাত্রার দিনে মহাপ্রভু ভক্তগণসহ নৃত্য গীত কীর্তন করে ফিরে আসতেন।

