বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বোধিবৃক্ষ

গীতা—জীবন দর্শন

প্রকাশিত: ৭ জুন, ২০২৬
গীতা—জীবন দর্শন
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

গীতার সর্বশেষ শ্লোকে সঞ্জয় একটি সিদ্ধান্তের কথা বলছেন—যেখানেই যোগেশ্বর কৃষ্ণ, যেখানেই গাণ্ডিবধারী অর্জুন, সেখানেই শ্রী, জয়, কল্যাণ এবং অবিচল নীতি বিরাজ করে। শ্রীকৃষ্ণ অর্থাৎ অতুলনীয় শান্ত ব্যক্তিত্ব, অন্তরটি তাঁর প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ, সমগ্র মানবজাতির প্রতি করুণায় ভরপুর এবং সর্বোপরি মহান আচার্য। সুতরাং তিনি যেখানেই থাকবেন তা পরিবারই হোক, সমাজই হোক অথবা জাতি হোক, সেখানে শ্রী অর্থাৎ সমৃদ্ধি নেমে আসবে। আর অর্জুন ছিলেন কর্মবীর। তাই শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুনের মিলিত শক্তির প্রকাশ যদি কোন ব্যক্তির চরিত্রে, সমাজ জীবনে এবং জাতির জীবনে প্রকাশিত হয় তাহলে আমরা অবশ্যই শ্রী লাভ করব। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ সমাজে ধর্মভাবটি ক্ষীণ হয়ে এসেছে। অর্থের প্রতি লালসা মানুষের সব গুণ নষ্ট করে দিতে পারে। ভারতীয় সমাজে আজ সেই ব্যাধি প্রবল আকার নিচ্ছে। গীতাকে আমরা দূরে ঠেলে রেখেছি ধর্মনিরপেক্ষতার অজুহাতে। অথচ গীতা কোন বিশেষ ধর্মের গ্রন্থ নয়, গীতা একটি জীবন দর্শন বিষয়ক গ্রন্থ যা অনুসরণ করলে মানুষ তার সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। অর্থাৎ একজন অধার্মিক, লোভী, স্বার্থপর মানুষের স্তর থেকে দেবতায় উন্নীত হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে গীতায়। পশু মানুষ থেকে দেবত্বে উন্নীত হওয়ার দর্শন হলো গীতা। গীতায় যে যোগের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তার সামান্য এক বিন্দু যদি এদেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে তাহলে সমাজের সমগ্র চিত্রটাই বদলে যাবে। সঞ্জয় বলছেন, গীতার যোগ অনুসরণ করলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সব কাজে সাফল্য, উন্নত মানের রাষ্ট্রীয় কল্যাণাদর্শ, নৈতিক সচেতনতা, অবিচল নীতি এবং ন্যায়পরায়ণতা সমাজে আসবে। যেখানে ধর্ম আছে, সেখানে আইন ও ন্যায়ের সহাবস্থান। যেখানে অধর্ম, সেখানে আইন একদিকে যায় আর ন্যায় আর একদিকে যায়। গীতা আমাদের ধর্মে মহান এবং কর্মে মহান করার শিক্ষা দেয়।ধর্ম নামক মূল্যবোধটির প্রয়োজন এই কারণেই যে তা দুর্বলকে সবলের সমান করে তোলে।