বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বোধিবৃক্ষ

অন্যের প্রতি উদাসীনতা

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬
অন্যের প্রতি উদাসীনতা
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

মানবিকতার নির্যাস হলো ভালবাসা। এই ভালবাসার আলিঙ্গনে সৃষ্টির সবকিছুই বেঁধে ফেলা যায়। যার মনে অপরের জন্য বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই সে অবশ্যই একজন অপরিণত মানুষ , সে নামেই মানুষ, আসলে পশুর নামান্তর। কারণ মনুষ্যত্বের প্রকৃত লক্ষণ—একত্ববোধ ও সকলের প্রতি ভালবাসা, শুধু নারী - পুরুষ নয়, পশু- পাখি, গাছপালা প্রভৃতি সকলের প্রতি ভালবাসা। প্রখ্যাত লেখক ও চিন্তাবিদ বার্নার্ড শ বলছেন, অপরের প্রতি নিষ্ঠুরতা অবশ্যই খারাপ, কিন্তু তার চেয়েও খারাপ অন্যের প্রতি উদাসীনতা। এই মনোভাবকে তিনি অমানবিকতার প্রকৃত রূপ বলেছেন। তিনি এই কথা বললেন কারণ, নিষ্ঠুরতা একটা সাময়িক প্রতিক্রিয়া মাত্র। কেউ হয়তো আদৌ নিষ্ঠুর প্রকৃতির নয,  কিন্তু বেশ কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সে আত্মসংযম বা আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং অন্যকে ঘৃণা করে বা উত্তেজনা বসে যা খুশি তাই করে বসে। আবার তার পছন্দের লোক যারা তাদের প্রতি স্নেহ ভালবাসা হয়তো যথেষ্টই আছে আবার যাদের পছন্দ করে না তাদের হয়তো শত্রু মনে করে এবং তাদের অনিষ্ট করার চিন্তা করে। এই ঘটনা নিষ্ঠুরতার পরিচায়ক এবং দেখা যায় এটি সাময়িক। কিন্তু যে ব্যক্তি অন্যের প্রতি উদাসীন তাহার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা। এই ধরনের লোকেরা নিজেকে নিয়েই সবসময় ব্যস্ত, অন্যের কথা ভাববার সময় নেই তার। ভালোবাসে শুধু নিজেকেই। কাউকে ভালবাসলেও তার পিছনে থাকে নিজের গভীর স্বার্থ , আর সেই স্বার্থে আঘাত লাগলেই তার ভালোবাসা অবিলম্বে ঘৃণায় পরিণত হয়। অন্যের কি হলো না হলো তা নিয়ে তার কোন মাথা ব্যথা নেই। নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য ঘনিষ্ঠতম বন্ধুকেও বলি দিতে তার কুন্ঠা হয় না। তার ভাবভঙ্গিমা দেখলে মনে হবে এই জগৎটা যেন কেবল তার স্বার্থ আগলাবার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত আছে—রোম যখন দাউ দাউ করে জ্বলছিল তখন "নীরো" বেহালা বাজাচ্ছিলেন, এই ধরনের "নীরো"র অভাব আমাদের সমাজে একেবারেই নেই বরং এর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

আরও বোধিবৃক্ষ খবর