দেশ
ধর্মের দোহাই দিয়ে ৩,০০০ কোটির প্রতারণা! অবশেষে পুলিশের জালে ‘হীরা গ্রুপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা নোহেরা শেখ
প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং হরিয়ানা পুলিশের একটি বড় যৌথ অভিযানে অবশেষে গ্রেফতার হলেন ‘হীরা গ্রুপ অফ কোম্পানিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা নোহেরা শেখ। হরিয়ানার গুরুগ্রামের একটি আবাসন থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃত নোহেরার বিরুদ্ধে শরিয়ত আইনের দোহাই দিয়ে এবং ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশ জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে গত এক মাস ধরে পলাতক থাকা এই মহিলাকে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছিল। শেষ পর্যন্ত জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আত্মগোপন করে থাকার সময় তিনি ধরা পড়েন।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামের শরিয়ত আইন অনুযায়ী সুদের আদান-প্রদানকে ‘হারাম’ বা মহাপাপ বলে গণ্য করা হয়। এই বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে বহু মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রথাগত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা রাখা বা বিনিয়োগ করা এড়িয়ে চলেন। নোহেরা শেখ সাধারণ মানুষের এই মানসিকতা এবং ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করেই নিজের প্রতারণার জাল বুনেছিলেন। তিনি ‘হীরা গ্রুপ’ নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং বিশেষভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের লক্ষ্য করে একটি সুকৌশলী বিনিয়োগের পরিকল্পনা বা স্কিম তৈরি করেন।
বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর সংস্থায় টাকা রাখলে তা কোনো সুদের কারবারে খাটানো হবে না, বরং সম্পূর্ণ ইসলামিক নিয়ম মেনে সোনা ও অন্যান্য বৈধ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ দেওয়া হবে। ইডি সূত্রে খবর, এই ফাঁদে পা দিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি সাধারণ বিনিয়োগকারী তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ এই সংস্থায় ঢেলেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রতারণার অঙ্ক প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নোহেরা মূলত ‘পোঞ্জি স্কিম’ বা এক ধরণের ভুয়ো আর্থিক পিরামিড পদ্ধতিতে এই কারবার চালাচ্ছিলেন। এই পদ্ধতিতে কোনো প্রকৃত ব্যবসা করা হয় না। বরং শুরুর দিকে পুরনো বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস অর্জন করতে নতুন বিনিয়োগকারীদের থেকে সংগৃহীত টাকা লভ্যাংশ হিসেবে ঘুরিয়ে দেওয়া হতো। এর ফলে সাধারণ মানুষের লোভ ও বিশ্বাস দুই-ই বেড়ে যায় এবং আরও বেশি মানুষ টাকা লগ্নি করতে শুরু করেন। কিন্তু একসময় যখন নতুন বিনিয়োগ আসা বন্ধ হয়ে যায়, তখন গোটা ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়ে। ইডি এই বিপুল অর্থ তছরুপের মামলার গভীরে যেতে নোহেরা শেখকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইডি নোহেরা ও তাঁর আত্মীয়দের ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। মনে করা হচ্ছে, নোহেরার গ্রেপ্তারিতে পর্দাফাঁস হবে ধর্মের নামে চলা এই বৃহত্তম চক্রান্তের।

