দেশ
মোদীর ভিডিও ডিলিট বিতর্কে অবশেষে ক্ষমা চাইল মেটা
প্রকাশিত: ৫ আগস্ট, ২০২৬
নয়াদিল্লি: শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের প্রবল চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলেন সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা-র প্রধান মার্ক জুকারবার্গ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে হঠাৎ মুছে ফেলাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র টানাপোড়েন চলছিল। এই ঘটনায় মেটা প্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তিন দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা (আল্টিমেটাম) বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রের সংসদীয় কমিটি। ভারতের সেই কড়া বার্তার পরেই সুর নরম করল মার্কিন এই প্রযুক্তি সংস্থা।
জানা গিয়েছে, মোদীর ভিডিও সরানোর জন্য মেটার তরফে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অ্যালগরিদমের গলদকে দায়ী করা হয়েছে। তবে বিতর্ক শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও ডিলিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে খোলামেলাভাবে ঘুরে বেড়ানো ‘চাইল্ড পর্নোগ্রাফি’ বা শিশুদের যৌন নিগ্রহ সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট এবং ডিপফেক রুখতে না পারার ব্যর্থতা নিয়েও জুকারবার্গকে চরম ভর্ৎসনা করেছিল দিল্লির আইটি বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। চাপের মুখে পড়ে ইনস্টাগ্রাম সহ মেটার অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরণের মারাত্মক ও আপত্তিকর কনটেন্ট আপলোড হওয়ার দায়ও শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে নিয়েছেন সংস্থা প্রধান।
সূত্রের খবর, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটি সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, তিন দিনের মধ্যে জুকারবার্গ নিজে ক্ষমা না চাইলে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় মেটা যে ‘সেফ হারবার’ আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ পায়, তা কেড়ে নেওয়া হবে। এই রক্ষাকবচ হারালে ব্যবহারকারীদের আপলোড করা যে কোনও আপত্তিকর পোস্টের জন্য মেটার বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা করা যেত। সেই আইনি বিপাক এবং ভারতীয় বাজারের গুরুত্ব বুঝেই শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাওয়ার পথ বেছে নিলেন মেটাকর্তা।

