দেশ
রাজস্থানে পাঁচ মেয়ের মা ছেলের আশায় আবার অন্তঃসত্ত্বা
প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কন্যাসন্তান নিয়ে আমাদের সমাজে এখনও বহু মানুষের মানসিকতা বদলায়নি। পুত্রসন্তানের আশায় একের পর এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার ঘটনা এখনও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায়ই ঘটে থাকে। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানে, যা নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছে।
মাত্র ২২ বছর বয়সেই এক তরুণী ইতিমধ্যেই পাঁচ সন্তানের মা হয়েছেন। এই পাঁচ সন্তানের মধ্যে তাঁর একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। কিন্তু তাতেও সাধ মেটেনি তাঁর পরিবার ও তাঁর। দ্বিতীয় একটি পুত্রসন্তানের আশায় ওই তরুণী আবারও গর্ভবতী হয়েছেন। এই ঘটনাটি জানতে পেরে আর নিজের ক্ষোভ ও উদ্বেগ ধরে রাখতে পারেননি এক মহিলা চিকিৎসক। তিনি ওই অন্তঃসত্ত্বা বধূ এবং তাঁর পরিবারকে তীব্র ভাষায় ধমক দেন। হাসপাতাল কক্ষের সেই ঘটনার একটি ভিডিও এখন ইন্টারনেটে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি স্বতন্ত্র খবর।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মহিলা চিকিৎসক ওই তরুণীকে বলছেন, মাত্র ২২ বছর বয়সে তুমি পাঁচ সন্তানের মা হয়েছ। শরীর তো একেবারে শেষ করে ফেলেছ। একটা ছেলেও তো আছে, তাও আবার ছেলের আশা কেন? তিনি আরও বলেন, বারবার এভাবে গর্ভধারণ করার ফলে তরুণীর নিজের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। চিকিৎসকের এই ধমকের পেছনে শুধু রাগ ছিল না, ছিল এক চরম উদ্বেগ এবং অসহায়তার সুর। তিনি ওই বধূর পরিবারকেও সচেতন করার চেষ্টা করেন।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ডক্টর.প্রজ্ঞাওয়েলনেস’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অধিকাংশ মানুষই ওই মহিলা চিকিৎসকের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, গ্রামীণ ভারতে এখনও শিক্ষার অভাব এবং লিঙ্গবৈষম্য কতটা গভীরে শিকড় গেড়ে আছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। মাত্র ২২ বছর বয়সে ষষ্ঠবার গর্ভধারণ একটি মেয়ের শরীরের জন্য কতটা বিপজ্জনক, তা পরিবারটি বুঝতেও চাইছে না। শুধুমাত্র একটি ছেলের লোভে একটি মেয়ের জীবনকে এভাবে বাজি রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এই ঘটনাটি বর্তমান সমাজব্যবস্থার এক অন্ধকার দিককে আবারও সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও-এর মতো নানা সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও, মানুষের মনের ভেতরের পুত্রমোহ যে এখনও কাটেনি, তা এই ঘটনা থেকে পরিষ্কার। নেটিজেনরা মনে করছেন, গ্রামীণ এলাকায় নারীদের স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে আরও বেশি করে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা প্রয়োজন।

