২ টাকার টিকিটে বাধ্যতামূলক আধার-ফোন, প্রচারের অভাবে দুর্ভোগ
রিচা দত্ত , মুর্শিদাবাদ: আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে ডোমকল মহকুমা হাসপাতালের বহু রোগীকে। কারণ একটাই - সঙ্গে নেই আধার কার্ড আর সচল মোবাইল নম্বর।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২ টাকার আউটডোর টিকিট কাটতে গেলেই এখন আধার ও ফোন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। ডিজিটাল রেকর্ড রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু নিয়ম চালু হলেও তা নিয়ে কোনও প্রচার না হওয়ায় ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ডোমকল, জলঙ্গি, রানিনগরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ভোরে বেরিয়ে হাসপাতালে লাইন দিচ্ছেন রোগীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কাউন্টারে পৌঁছনোর পরই ধাক্কা। আধার-ফোন নম্বর চাইতেই অনেকেই বলছেন "সঙ্গে নেই"। আর অমনি টিকিট দেওয়া বন্ধ। বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের।
গড়াইমারির রমজান আলি(৬০) বলেন, "জ্বর নিয়ে এসেছি। ৫টায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। এখন বলে আধার লাগবে। কে জানত? কাল আবার আসতে হবে।" জলঙ্গির আসমা বিবির অভিযোগ, "গ্রামে তো কেউ বলেনি। জানলে আনতাম।"
হাসপাতাল সূত্রের খবর, প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ জন আউটডোরে আসেন। নতুন নিয়মের পর প্রায় ৩০-৪০% রোগীই আধার বা ফোন না থাকায় ফিরে যাচ্ছেন। কাউন্টারের কর্মীদেরও কিছু করার নেই। তারা সরকারি অর্ডার দেখিয়ে দিচ্ছেন।
এই নিয়ে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে রোগী ও তাদের পরিবারের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে, নিয়ম যখন বদলালো তখন হাসপাতালের গেটে, পঞ্চায়েতে, আশা কর্মীদের মাধ্যমে জানানো হল না কেন? যাদের আধার নেই বা ফোন নেই, বয়স্ক মানুষরা তারা কী করবেন?
স্থানীয়রা বলছেন, ডিজিটালাইজেশন দরকার। কিন্তু তার আগে মানুষকে জানাতে হবে। বড় নোটিশ, মাইকিং, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে প্রচার জরুরি। তা না হলে গরিব মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য থেকেই বঞ্চিত হবে।
প্রশাসনের বক্তব্য, "আমরা নির্দেশিকা মেনে কাজ করছি। তবে বিষয়টি দেখা হবে। শীঘ্রই হেল্প ডেস্ক ও নোটিশ বোর্ড লাগানো হবে।"
চিকিৎসকরাও বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে ছোট রোগও বড় হতে পারে। তাই নিয়মের সঙ্গে সচেতনতাও সমান জরুরি। গ্রামীণ হাসপাতালে পরিষেবা দিতে গেলে প্রচার আর সহযোগিতা - দুটোই দরকার।

