জেলা
যুগ্ম অভিযান দুই শহরে হোটেলগুলিতে হানা
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল: তারাপীঠ এবং কলকাতার হোটেলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এবার নড়েচড়ে বসল পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। আসানসোল ও দুর্গাপুরের হোটেলগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযানে নামল দমকল বিভাগ। শুক্রবার সকালে দমকল, পুলিশ ও অন্য সরকারি দফতরের আধিকারিকেরা একযোগে আসানসোলের একাধিক বড় ও মাঝারি হোটেলে আচমকা হানা দেন। আর এই অভিযানেই শহরের বেশ কয়েকটি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার বেহাল ও বিপজ্জনক ছবি সামনে এসেছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, তল্লাশি চালাতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, বহু হোটেলে আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য ন্যূনতম পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম নেই। কোথাও আবার আগুন লাগলে অতিথিদের বাইরে বেরনোর কোনও বিকল্প জরুরি পথ বা ‘এমার্জেন্সি এক্সিট’ রাখা হয়নি। এমনকি, কোনও কোনও হোটেলের প্রবেশপথ এতটাই ঘিঞ্জি যে, বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের সময়ে দমকলের গাড়ি ঢোকার মতো পর্যাপ্ত রাস্তাটুকুও নেই। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নিয়ম লঙ্ঘনকারী হোটেল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, নোটিসের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত খামতি পূরণ করতে হবে হোটেল মালিকদের। তা না হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও হোটেল বন্ধের মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে প্রশাসন।
একইভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শিল্পশহর দুর্গাপুরের হোটেলগুলিতেও এই চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন চত্বরের বেশ কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালায় যৌথ দল। সেখানেও ধরা পড়েছে চূড়ান্ত গাফিলতি। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু হোটেলে মজুত থাকা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মেয়াদের সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। দুর্গাপুর দমকল স্টেশনের আধিকারিক মনোজকুমার দাস জানিয়েছেন, নিয়ম না মানা হোটেল মালিকদের ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। সমস্ত বৈধ নথিপত্র-সহ তাঁদের দমকল দপ্তরে তলব করা হয়েছে।

