জেলা
টানা বৃষ্টিতে ভাসল আসানসোল, দুর্ভোগ চরমে
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাতভর রেকর্ড ভাঙা প্রবল বর্ষণের জেরে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে শিল্পাঞ্চল আসানসোলে। গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এই শহরেই। যার জেরে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলের তলায়। রেলপার, দিলদারনগর-সহ একাধিক নিচু এলাকায় হু হু করে জল ঢুকে পড়েছে ঘরবাড়িতে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা। চরম দুর্ভোগের মধ্যে কাটছে তাঁদের দিনরাত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টির জেরে আসানসোলের নিকাশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাট উপচে জল ঢুকে গিয়েছে বসতবাড়ির ভেতরে। খাটের ওপর জল, রান্নাবান্না বন্ধ। আসানসোলের রেলপার এবং দিলদারনগরের পরিস্থিতি সবচেয়ে আশঙ্কাজনক। কোমর সমান জলে ভাসছে রাস্তাঘাট। বহু মাটির বাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র, জামাকাপড় ও খাদ্যসামগ্রী জলে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কার্যত দিশেহারা সাধারণ মানুষ।
বিপর্যয়ের খবর পেয়েই রাতেই তৎপর হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসানসোল পুরনিগম এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে রাতভর উদ্ধারকাজ চালানো হয়। জলমগ্ন এলাকাগুলি থেকে নৌকা ও বিশেষ গাড়ির সাহায্যে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুর্গতদের জন্য বিভিন্ন সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি হলে সাময়িক ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে তাঁদের শুকনো খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুর প্রশাসন জানিয়েছে, নিকাশি নালাগুলি দিয়ে দ্রুত জল বের করার চেষ্টা চলছে। পাম্প বসিয়েও বেশ কিছু এলাকা থেকে জল নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে আকাশ মেঘলা থাকায় এবং নতুন করে বৃষ্টি নামলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে একটি হেল্পলাইন নম্বর (৯৫৯৩২২২২৫৫) চালু করেছেন। এছাড়াও বিজেপির জনপ্রতিনিধি ও নেতাদেরও রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণকার্যে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। অবিরাম বৃষ্টির ফলে গারুই ও নুনী নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

