জেলা
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু, এমন পরিনতি কেন? উঠছে প্রশ্ন
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, রামপুরহাট: বীরভূমের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা রামপুরহাটের পাঁচ বারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। রবিবার সকালে রামপুরহাটে নিজের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকেই তাঁর দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন। এই হেভিওয়েট নেতার আকস্মিক মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক মহলে শোকের পাশাপাশি দানা বেঁধেছে একাধিক রহস্যের ধোঁয়াশা।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বীরভূমের রামপুরহাট আসন থেকে পরপর পাঁচ বার জিতলেও, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন এই প্রাক্তন অধ্যাপক। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ওই নোটে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের (টিআরডিএ) প্রসঙ্গ রয়েছে। পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আশিসের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন বর্তমান বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। চিঠিতে সেই সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আক্ষেপের সুরে লেখা হয়েছে যে, মিথ্যে অভিযোগ তুলে তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। চিঠির হাতের লেখাটি আদেও আশিসবাবুর কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল স্পষ্ট জানান, “উনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন, এগুলো আসলে গল্প সাজানো হয়েছিল।” কংগ্রেস দিয়ে নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করলেও, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সঙ্গী ছিলেন রামপুরহাট কলেজের এই প্রাক্তন শিক্ষক। দলমত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। হেনস্থার জেরে গভীর মানসিক অবসাদ থেকেই কি এই চরম সিদ্ধান্ত, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা জানতে দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। তবে এমন পরিনতিতে হতবাক সকলে। কেন এমন করলেন এই আক্ষেপের সুর রামপুরহাট তথা রাজ্য জুড়ে।

