জেলা
জিআই তকমা পেল বাংলার ঐতিহ্যবাহী নলেন গুড়
প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিউড়ি: বাঙালির শীতকাল মানেই নলেন গুড়ের নস্ট্যালজিক সুবাস। রসগোল্লা, পায়েস, সন্দেশ থেকে শুরু করে পাটিসাপ্টা বা হরেক রকমের পিঠে— নলেন গুড় ছাড়া যেন শীতের আমেজটাই মাটি। বাংলার সেই অনন্য স্বাদের নলেন গুড়ই এবার পেল আন্তর্জাতিক স্তরের ভৌগোলিক স্বীকৃতি বা ‘জিআই’ (GI) তকমা। বীরভূম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারই নিবন্ধিত স্বত্ত্বাধিকারী হিসাবে রাজ্য খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের কাছে এই সংক্রান্ত একটি শংসাপত্র ও চিঠি এসে পৌঁছেছে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এবং তুমুল জনপ্রিয় খাদ্যপণ্য নলেন গুড়কে অফিশিয়ালি জিআই ট্যাগ দেওয়া হল।দক্ষিণবঙ্গের যে কয়েকটি জেলা এই বিশেষ গুড় উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত, তার মধ্যে অন্যতম বীরভূম।
জানা গিয়েছে, জিআই পণ্য হিসাবে নথিভুক্ত হওয়া নলেন গুড়ের জিআই নম্বর ১০৩৯। রাজ্য সরকারের খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলেই এই বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি মিলল। নলেন গুড়ের এই স্বকীয়তা ও ঐতিহ্যের আইনি স্বীকৃতি আগামী দিনে এই গুড় তৈরির আসল কারিগর বা ‘শিউলি’দের আর্থিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত করবে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।এতদিন ধরে ওড়িশার রসগোল্লা বনাম বাংলার রসগোল্লার লড়াইয়ের পর, নলেন গুড়ের এই প্রাপ্তি বাংলার মুকুটে এক নতুন পালক জুড়ল। বীরভূমের জেলা শাসক জানান, এই জিআই ট্যাগের ফলে বাজারে নকল গুড়ের রমরমা কমবে। গ্রাহকেরা যেমন খাঁটি নলেন গুড়ের স্বাদ পাবেন, তেমনই আন্তর্জাতিক বাজারেও এর রফতানির রাস্তা আরও চওড়া হবে। ফলে লাভবান হবেন বীরভূমসহ দক্ষিণবঙ্গের হাজার হাজার প্রান্তিক শিউলি পরিবার, যাঁরা শীতের ভোরে কনকনে ঠান্ডায় গাছে উঠে এই রস সংগ্রহ করেন।

