বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জেলা

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বৃহস্পতিবার রাতের আচমকা হাসপাতাল পরিদর্শনের পর ফের শুক্রবার সকালে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিট করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পর পর দু’দিনে তাঁর এই আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন ঘিরে চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়। শুক্রবার সকাল পৌনে এগারোটা নাগাদ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি তথা গাইনি বিভাগে পৌঁছন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের আরও দুই মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাসমিত্র এবং ক্ষুদিরাম টুডু।

শুক্রবারের পরিদর্শনে প্রথমে গাইনি বিভাগে গিয়ে রোগী পরিষেবা, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ওয়ার্ডের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁরা পরিদর্শন করেন আউটডোর সার্জারি বিভাগ। এরপর শিশু ওয়ার্ড এবং মেডিসিন বিভাগেও যান মন্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গীরা। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা কীভাবে চলছে, রোগীদের কী ধরনের পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিকাঠামোগত পরিস্থিতি কেমন—সেই সমস্ত বিষয় সরেজমিনে দেখেন তাঁরা।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বাদ দিলে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা মোটের উপর ঠিকই রয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পর তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রোগী পরিষেবার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার মান নিয়েও যে প্রশাসনের নজর রয়েছে, মন্ত্রীর বক্তব্যে তারই ইঙ্গিত মিলেছে।তিনি বলেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সাংঘাতিক অভাব এটা দশ এ শূন্য দেওয়া হয়েছে, বর্ধমান মেডিকেল কলেজে পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে অবস্থা খুবই খারাপ বললেন মন্ত্রী। হাসপাতালের দালাল চক্র নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন সবাইকে ব্যাচ পড়তে বলেছি হাসপাতালে ব্যাচহীন যারা থাকবে হয় রুগী নাহয় রুগীর বাড়ির আর দালাল এই তিনজনের মধ্যে রুগী এবং রুগীর বাড়ির লোককেও আমরা পরিচয় পত্র দিয়ে দেবো,পরে থাকছে শুধু দালাল এবং সাংবাদিক,সাংবাদিকদেরতো ব্যাচ আছে চিনতে পারবো হাতে বুম আছে ক্যামেরা আছে কিন্তু দালালের কিছু থাকবেনা এই তৃতীয় জন যে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাসপাতালে এবার তাকে আমরা ধরবো। হাসপাতালে নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও জোরদার করা হয়েছে আরও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। গণতন্ত্রের ব্রত আমরা গণতন্ত্রের দীক্ষিত আমরা সুতরাং এখানে নির্বাচন হবে, কালীঘাটের অঙ্গুলি হেলনে বা হাতছানিতে   এবং চোখ পিট পিটুনিতে কোনোরকম ছাত্র প্রতিনিধি করতে পারবেন না, আমরা নীতি মেনে চলি নীতির সরকার আমরা দুর্নীতির প্রতিবাদ করি, সুতরাং নির্বাচনে যাতে কোন দুর্নীতি না হয় সেটাও আমরা দেখব। এবারে অ্যাম্বুলেন্স অ্যাপ চালু হবে আর কিছুদিনের অপেক্ষায় জানালেন মন্ত্রী,বললেন অ্যাপের  মাধ্যমেই বুক করতে পারবেন এবার থেকে অ্যাম্বুলেন্স। এদিকে মেডিকেল কলেজে কলেজের দেওয়ালের প্রতিবাদী ভাষার সুর দেখতে পেয়ে মেজাজ হারালেন মন্ত্রী, ২৪ঘন্টার মধ্যে এই দেওয়াল লিখন মুছে সাদা করে দেওয়ার নির্দেশ মন্ত্রীর। দেওয়াল লিখন নিয়ে প্রশ্ন করতেই মন্ত্রী বললেন যারা এই প্রতিবাদ করেছেন দেওয়ালি লিখে তাদের নিজের বাড়িতে এই প্রতিবাদ হয়।ঘরের বেডরুম সেখানে তো কোই প্রতিবাদীর সুর দেখা যায় না। সেখানে কি সেই সুর মৃদু হয়ে যায়।
এর আগের রাতেই, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাতে, আচমকা পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল ব্লক হাসপাতাল এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে কোনওরকম খবর না দিয়েই ওই পরিদর্শন করা হয় বলে জানান তিনি। আচমকা হাসপাতালে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাতেই শুরু হয়ে যায় প্রশাসনিক তৎপরতা।
প্রথমে বড়শুল ব্লক হাসপাতালে পৌঁছে জরুরি বিভাগের পরিষেবা খতিয়ে দেখেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানে চিকিৎসক ও নার্সরা কীভাবে রোগীদের পরিষেবা দিচ্ছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে কি না—সেসব বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার রাতের সেই পরিদর্শনের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সকালে ফের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মন্ত্রীর উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই হাসপাতালকে কেন্দ্র করে পর পর দু’দিন মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্য পরিষেবার বাস্তব পরিস্থিতি সরাসরি যাচাই করার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
শুক্রবারের পরিদর্শনে গাইনি, আউটডোর সার্জারি, শিশু এবং মেডিসিন—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। রোগীদের সঙ্গে কথা বলা থেকে শুরু করে হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিবেশ সম্পর্কে সরেজমিনে খোঁজ নেওয়া—সব মিলিয়ে প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই নজর দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক সারপ্রাইজ ভিজিটে একদিকে যেমন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রশাসনের সরাসরি নজরদারির বিষয়টি সামনে এসেছে, তেমনই পরিচ্ছন্নতা এবং হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও আরও কড়া নজরদারির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পর পর এই পরিদর্শন আগামী দিনে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবার মান আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে কী বার্তা দেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।