জেলা
বীরভূমে কর্মতীর্থেও দুর্নীতি, চাঞ্চল্য বীরভূমে
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদর স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বীরভূমে সরকারি উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল পাঁচটি ‘কর্মতীর্থ’ হাট। উদ্দেশ্য ছিল মহৎ— গ্রামীণ হস্তশিল্পী, তাঁতি ও কুটির শিল্পের কারিগরদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য একটি স্থায়ী বিপণন ব্যবস্থা বা বাজার গড়ে তোলা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। সরকারি লক্ষ্য পূরণ তো দূরের কথা, উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং সঠিক বাজারজাতকরণের অভাবে জেলার একাধিক কর্মতীর্থ হাট আজ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। সম্প্রতি দেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (ক্যাগ)-এর রিপোর্টে এই হাটগুলির চরম অব্যবস্থা ও আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলায় এদের ভবিষ্যৎ নিয়েই বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ক্যাগ-এর রিপোর্টে প্রকাশ, এই প্রকল্পগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা দেখানো হয়েছে। শুধু পরিকাঠামোগত খামতিই নয়, সামনে এসেছে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী হাটগুলি থেকে সংগৃহীত রাজস্ব বা অর্থ সরকারি তহবিলে জমা পড়ার কথা থাকলেও, তা করা হয়নি। এছাড়া আয় ও ব্যয়ের খতিয়ানেও মিলেছে অজস্র গরমিল। অনেক জায়গায় দোকানঘর বিলি করা হলেও সেগুলি বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে রয়েছে, যার ফলে কোনো কর্মসংস্থানই তৈরি হয়নি।
স্থানীয় কারিগর ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের অভিযোগ, হাটগুলি প্রত্যন্ত এলাকায় তৈরি হওয়ায় সেখানে সাধারণ ক্রেতাদের যাতায়াত নেই। সরকারি প্রচারের অভাব এবং সঠিক রোডম্যাপ না থাকায় তাঁরা উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হওয়া এই ঝাঁ-চকচকে পরিকাঠামো এখন স্রেফ ভূতুড়ে আবাসে পরিণত হয়েছে। ক্যাগ-এর এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই জেলা জুড়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থানের এই বেহাল দশা কীভাবে কাটবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

