জেলা
খাদ্যনালীর সমস্যা,মুখ দিয়ে মলমূত্র বের হচ্ছিল ৯মাসের শিশুর কন্যার! বিধায়ক মৌমিতার হস্তক্ষেপ
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: খাদ্য নালীর সমস্যা নিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল মাত্র ৯ মাসের এক কন্যাশিশু। গুরুতর শারীরিক সমস্যায় কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিল শিশুটি। চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছিল অসহায় পরিবার। শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জয় ভারত-এর উদ্যোগ এবং বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ীকা মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের তৎপরতায় শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জানা যায়, পূর্ব বর্ধমান জেলার শহর বর্ধমানের ভাতছালা কলোনির বাসিন্দা ওই কন্যাশিশুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার খাদ্যনালীর গুরুতর সমস্যার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, এমন অবস্থায় শিশুটির মুখ দিয়ে মলমূত্র পর্যন্ত বের হতে শুরু করে। মাত্র ৯ মাসের শিশুকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তার বাবা-মা।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাহায্যের আশায় তারা দ্বারস্থ হন জয় ভারত নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার। সংস্থার পক্ষ থেকে প্রথমে শিশুটিকে বর্ধমান হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী বর্ধমান হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুটির আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন এবং তাকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অথবা বর্ধমান একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর কথা বলা হয়।
পরিবার বর্ধমানের ওই বেসরকারী হাসপাতালে যোগাযোগ করলে শিশুটির চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন প্রায় ৩ লক্ষ্য টাকার অধিক অর্থের প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়। আর্থিকভাবে অসহায় পরিবারের পক্ষে এত দ্রুত সেই অর্থের ব্যবস্থা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে আবারও তারা সাহায্যের আশায় জয় ভারতের কাছে ফিরে আসেন।
জয় ভারত-এর পক্ষ থেকে পরিবারের সমস্যার কথা জানতে পেরে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংস্থার সদস্য দিব্যেন্দু চক্রবর্তী বিষয়টি নিয়ে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে বিধায়ক বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং দেরি না করে কিশলয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
জানা যায়, বিধায়ক হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে শিশুটির দ্রুত চিকিৎসা ও অপারেশনের ব্যবস্থা করার জন্য উদ্যোগী হন। শিশুটির যাতে কোনওরকম ক্ষতি না হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যাতে দ্রুত শুরু করা যায়, সেই বিষয়েও চিকিৎসকদের বিশেষভাবে নজর দিতে বলেন তিনি।
এরপর দ্রুত চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরিবারের দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে বর্তমানে ৯ মাসের ওই কন্যাশিশু সুস্থ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিধায়কের এই তৎপরতায় স্বস্তি ফিরেছে শিশুটির পরিবারে।
জয় ভারত-এর সদস্য দিব্যেন্দু চক্রবর্তী বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিজেপির সঙ্গে রয়েছি। আমাদের এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি মাত্র দেড় মাস আগে পথচলা শুরু করেছে। কিন্তু মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ওই কন্যাশিশুটির শারীরিক সমস্যার কথা জানার পর আমরা পরিবারের পাশে দাঁড়াই। চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনের কথা জানতে পেরে আমরা বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র দিদির সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং দ্রুত কিশলয় হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে, এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।”
শিশুটির সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি পরিবার। চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে বিধায়ক এবং জয় ভারত-এর পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা করা হয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এই ঘটনায় আরও একবার সামনে এল, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি একসঙ্গে এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব। মাত্র ৯ মাসের একটি শিশুকে ঘিরে যখন পরিবারটি কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছিল, তখন দ্রুত উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত আশার আলো দেখায়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ থাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তার পরিবার।

