বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জেলা

৭৫ বছরের বৃদ্ধার বাড়িতে চুরির কিনারা করল বর্ধমান থানার পুলিশ

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬
৭৫ বছরের বৃদ্ধার বাড়িতে চুরির কিনারা করল বর্ধমান থানার পুলিশ
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান শহরের  তেজগঞ্জ-মোহনবাগ এলাকায় ৭৫ বছরের বৃদ্ধার বাড়িতে চুরির ঘটনার কিনারা করল বর্ধমান থানার পুলিশ। চুরির অভিযোগে তিন মহিলা-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৬০ গ্রাম সোনার গয়না, ১০০ গ্রাম রূপোর গয়না এবং নগদ ৩ লক্ষ টাকা। এছাড়াও একটি ১৯৪২ সালের পুরনো কয়েন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 জানা গিয়েছে, তেজগঞ্জ-মোহনবাগ এলাকার বাসিন্দা রেখা সোম তাঁর অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার কারণে গত ১৪ জুন নতুনগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে ছিলেন। প্রায় দেড় মাস পর, ৬ অগস্ট সকালে তাঁর মেয়ে বাপেরবাড়িতে গিয়ে দেখতে পান বাড়ির দরজার তালা ভাঙা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ফোন করে মাকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে রেখাদেবী দেখেন, দোতলার ঘরের আলমারির লক ভাঙা। আলমারিতে রাখা সোনা-রুপোর গয়না এবং নগদ টাকা উধাও। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২০০ গ্রাম সোনার গয়না, ১৫০ গ্রাম রুপোর গয়না এবং নগদ ৪ লক্ষ টাকা চুরি হয়েছে। ঘটনার দিনই বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে বর্ধমান থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে ১৪ অগস্ট বীরভূমের বোলপুর থানার লায়েকবাজার এলাকা থেকে শেখ করণ ওরফে কারেন্ট নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে চুরির ঘটনায় জড়িত আরও এক ব্যক্তির নাম জানতে পারে পুলিশ। তার সূত্র ধরে বর্ধমানের খাগড়াগড় এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ সাবির ওরফে কেঁটালকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য একটি মামলায় সে জেলে ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

দুই ধৃতকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তকারীদের সামনে আসে চুরির মালপত্র লুকিয়ে রাখার তথ্য। পুলিশ জানতে পারে, চুরি করা গয়না ও টাকা তিন মহিলার কাছে রাখা হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে মালিরবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁদনিহারা বেগম ওরফে চম্পা, রিজিয়া বিবি এবং সোনিয়া বিবি ওরফে সানিয়া নামে তিন মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, চুরি করা সোনা-রুপোর গয়না এবং নগদ টাকা চাঁদনিহারার একটি আলমারির ভিতরে হ্যাণ্ডব্যাগে রাখা ছিল। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বেশিরভাগ গয়না ও নগদ টাকা। সব মিলিয়ে উদ্ধার হয়েছে ১৬০ গ্রাম সোনার গয়না, ১০০ গ্রাম রূপোর গয়না এবং ৩ লক্ষ টাকা।

তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ধৃত তিন মহিলা দীর্ঘদিন ধরে চোরাই মালপত্র কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। চুরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চোরাই মালপত্র রাখার ক্ষেত্রেও তাঁরা সাহায্য করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

বুধবার ধৃত তিন মহিলাকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। চুরি যাওয়া বাকি গয়না ও টাকা উদ্ধার এবং গোটা চক্রের বিষয়ে আরও তথ্য জানতে তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত তিন মহিলাকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

বৃদ্ধার বাড়িতে চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ চোরাই গয়না ও টাকা উদ্ধারের পর তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বর্ধমান থানার পুলিশ। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, চোরাই মালপত্রের লেনদেনের নেটওয়ার্ক কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।