গোবিন্দপুরে মুখ্যমন্ত্রী, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ - গেটম্যানের কঠোরতম শাস্তির দাবী
রিচা দত্ত, মুর্শিদাবাদ: দুর্ঘটনাগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বহরমপুর পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী। সকাল প্রায় ১১টা ২০ নাগাদ হেলিপ্যাডে নেমে সরাসরি গোবিন্দপুর গ্রামে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী।
গত শুক্রবার বহরমপুর থানার কর্ণসুবর্ণ গোবিন্দপুর রেলগেটে পুলকার দুর্ঘটনায় ৪ জন খুদে পড়ুয়া ও ১ জন পথচারী-সহ ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রায় ১২ টা নাগাদ তিনি পৌঁছান কর্ণসুবর্ণ গোবিন্দপুরের সভামঞ্চে। সেখানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেন।
মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "দুর্ঘটনার শিকার যারা হয়েছেন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া আর কোনো ভাষা নেই। আমি সকলের পাশে আছি। অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ হয় না। সরকারের পক্ষ থেকে যেটুকু দায়িত্ব পালন করার সেটুকু করলাম।" দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে তিনি পুলিশ ও রেলের প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, "গেটম্যানের দায়িত্বে গাফিলতির জন্য এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কথা দিচ্ছি গেটম্যানের চূড়ান্ত শাস্তি হবে।"
তিনি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন, "জেলে থাকাকালীন তদন্ত শেষ করতে হবে এবং চার্জশিট দিতে হবে এবং তার জন্য কঠোরতর শাস্তি যা হয় তা প্রদান করতে হবে।" একইসাথে জেলা শাসককে রেলগেটের সুরক্ষা বৃদ্ধি নিয়ে রেল দপ্তরের সাথে কথা বলার জন্য বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পরিযায়ী পরিবারগুলির দেখভালের জন্য বেলডাঙ্গার বিধায়ক ভরত ঝাউয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে রেলমন্ত্রীর সাথে কথা বলে গোটা রাজ্যের রেলগেটের সুরক্ষা নিয়েও আলোচনা করবেন।
গোবিন্দপুর থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন ২ জনের খোঁজখবর নিতে মেডিকেল কলেজে পৌঁছান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "মেডিক্যাল কলেজের টিম সবাইকে বাঁচাতে পারেনি, দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।"
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর তিনি কলকাতার উদ্দ্যেশে রওনা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে গোটা গোবিন্দপুর ও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

