জেলা
জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা! সুবিচারের দাবিতে ডিএম ও এসপি দপ্তরে দ্বারস্থ ভুক্তভোগী যুবক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জাল দলিল তৈরি করে জমি বেআইনিভাবে দখল এবং জোর পূর্বক চাষবাস করার গুরুতর অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ থানা এলাকার কেশবপুর গ্রামে। সুবিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জেলা শাসক (DM) ও জেলা পুলিশ সুপারের (SP) দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন মঙ্গলবার ভুক্তভোগী যুবক সাদ্দাম মোল্লা।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম মোল্লা জানান, খণ্ডঘোষ থানার অন্তর্গত কেশবপুর মৌজা এবং কামালপুর মৌজায় তাদের মোট তিন বিঘা পাঁচ কাঠা পৈতৃক জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে ওই জমির বৈধ দলিল রয়েছে এবং তারা সেখানে চাষবাস করে আসছেন। অভিযোগ, ১৯৭৬ সালের একটি ডুপ্লিকেট জাল দলিল ব্যবহার করে তার তিন জ্ঞাতি ভাই—মনিরুল ইসলাম মোল্লা, শফিকুল ইসলাম মোল্লা এবং রেজাউল ইসলাম মোল্লা এই জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি আদালতে গড়াল আদালত ও রেকর্ড রুমের নথিপত্রে সেই জালিয়াতি প্রমাণিত হয়। ২০১১ সালে বিএলআরও (BL&RO) দপ্তরের মাধ্যমে সাদ্দাম মোল্লার পরিবারের নামে পুনরায় জমির রেকর্ড ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সাদ্দাম মোল্লার দাবি, সম্প্রতি আবারও সেই জাল দলিলের ওপর ভর করে প্রতিপক্ষরা জমি দখলের চক্রান্ত শুরু করেছে। গত ২১ জুলাই খণ্ডঘোষ থানায় জিডি (GD) করা হলেও ৭ আগস্ট পুলিশ উভয় পক্ষকে ডেকে ঝামেলা না করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এরপরই প্রতিপক্ষ মনিরুল ও তার ভাইয়েরা থানায় বড়বাবুর ভুয়া আদেশের কথা প্রচার করে ভোরের আলো ফোটার আগেই জোর করে ট্রাক্টর নামিয়ে জমি চাষ করতে শুরু করে। প্রতিবাদ করতে গেলে সাদ্দাম ও তার ভাই সাইদুল মোল্লাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় থানায় সঠিক প্রতিকার না পেয়ে এবং প্রতিপক্ষের হুমকির মুখে বাধ্য হয়ে তিনি জেলা প্রশাসনিক ভবন ও পুলিশ সুপারের দপ্তরে দ্বারস্থ হয়েছেন। ভুক্তভোগী সাদ্দাম মোল্লা জানান, "প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই আবেদন, সমস্ত সরকারি নথি ও কাগজপত্র সঠিক যাচাই করে আমাদের ন্যায়বিচার দেওয়া হোক এবং শান্তিতে নিজস্ব জমিতে চাষবাস করার অনুমতি দেওয়া হোক।

