জেলা
১৮ আগস্টকে স্বাধীন দিবস বলে মুর্শিদাবাদের প্রবীণরা
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গোটা দেশ যখন ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার আনন্দে মেতে উঠেছিল, মুর্শিদাবাদ তখন ভাসছিল চরম অনিশ্চয়তায়। র্যাডক্লিফ লাইনের এক অদ্ভুত ত্রুটির কারণে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মুর্শিদাবাদ জেলা সাময়িকভাবে চলে গিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের অধীনে। অন্যদিকে, অধুনা বাংলাদেশের খুলনা জেলা শামিল হয়েছিল ভারতের মানচিত্রে। স্বাধীনতার ঠিক তিনদিন পর, অর্থাৎ ১৮ আগস্ট ফের বদলে যায় দুই দেশের সীমানা। অবশেষে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদ। তাই জেলার প্রবীণ নাগরিকদের কাছে আজও ১৫ আগস্ট নয়, ১৮ আগস্টই প্রকৃত স্বাধীনতা দিবস।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, দেশভাগের সময় সীমানা নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা স্যার সিরিল র্যাডক্লিফের মানচিত্রের ভুলে তৈরি হয়েছিল এক জটিল পরিস্থিতি। ১৫ আগস্ট সকালে বহরমপুরের ঐতিহ্যবাহী ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন মুর্শিদাবাদের তৎকালীন আইসিএস অফিসার আই. আর. খান। জেলার একটা বড় অংশে ওড়ে পাকিস্তানের পতাকা। এই ঘটনায় গোটা জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং অস্থিরতা তৈরি হয়। বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয় দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ে। শেষমেশ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও কৌশলগত কারণে মুর্শিদাবাদ ভারতেই থাকবে। আর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা খুলনা চলে যাবে পাকিস্তানে। স্বাধীনতার তিনদিনের মাথায়, ১৭ আগস্ট রাতে রেডিওতে নতুন সীমানার চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়।
পরদিন, অর্থাৎ ১৮ আগস্ট সকালে বহরমপুরের ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে সগৌরবে ওড়ানো হয় ভারতের তেরঙা জাতীয় পতাকা। অবসান ঘটে তিনদিনের রুদ্ধশ্বাস উৎকণ্ঠার। ভারতমাতার অংশ হিসেবে নতুন জীবন পায় মুর্শিদাবাদ। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই আজও জেলার বহু প্রবীণ মানুষ ১৮ আগস্ট দিনটিকে মুর্শিদাবাদের নিজস্ব ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন।

