জেলা
রেশন কার্ড বাতিলের জেরে শোরগোল জেলায়
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমানঃ রাজ্যের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের (এনএফএস) আওতাভুক্ত রেশন কার্ডের তালিকায় বড়সড় ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য খাদ্য দপ্তর। যে সমস্ত উপভোক্তার নিজস্ব গাড়ি রয়েছে, কোনো সংস্থার ডিরেক্টর পদে আছেন, বছরে ২৫ লক্ষ টাকার বেশি জিএসটি রিটার্ন জমা দেন কিংবা পিএম কিষান পোর্টালে আড়াই একরের বেশি জমি নথিভুক্ত রয়েছে— তাঁদের ভর্তুকি-যুক্ত রেশন সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় গত সপ্তাহ থেকেই আধার সংযুক্ত এই রেশন কার্ডগুলি ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি আয়কর দাতা, সরকারি কর্মী এবং বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মীদের কার্ডও নিবিড়ভাবে ঝাড়াই-বাছাই করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমান জেলায় আগে মোট রেশন কার্ডের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫২ লক্ষ, যা আগের দফার স্ক্রিনিংয়ের পর কমে দাঁড়ায় ৪৭ লক্ষে। তার মধ্যে এনএফএস-এর আওতাভুক্ত কার্ডের সংখ্যা ৩৩,১৪,৮৯১টি। বর্তমান দফার এই বিশেষ অভিযানে জেলায় ইতিমধ্যেই নতুন করে ৭৬,৩২৯ জন উপভোক্তার রেশন কার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে জেলার রেশন উপভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আর্থিক অবস্থা অনুসারে তিন ধরনের কার্ড দিয়েছিল খাদ্য দফতর। এনএফএসের আওতায় রয়েছে, অগ্রাধিকার পরিবার (পিএইচএইচ), বিশেষ অগ্রাধিকার পরিবার (এসপিএইচএইচ) এবং অন্ত্যোদয় অন্নযোজনা (এএওয়াই)। এর বাইরে রয়েছে আরকেএসওয়াই (১ ও ২)। এ ছাড়াও ভর্তুকিহীন রেশন কার্ডও চালু রয়েছে।
এই কড়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া স্পষ্ট জানান, "পূর্বতন বাম ও তৃণমূল জমানায় দলীয় পক্ষপাতিত্বের ভিত্তিতে রেশন কার্ড বিলি করা হয়েছিল। এর ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা রেশনের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর যত কার্ড বাতিল হবে, ঠিক ততজন প্রকৃত অভাবী ও দুস্থ মানুষকে খাদ্য সুরক্ষার আওতায় এনে নতুন কার্ড দেওয়া হবে।"
অন্যদিকে, সরকারি এই গণ-ছাঁটাই প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন রেশন ডিলাররা। পূর্ব বর্ধমান জেলার ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল এম আর ডিলার্স’ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পরেশনাথ হাজরা এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, "গোটা প্রক্রিয়াটি একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হচ্ছে। সার্ভার থেকে সরাসরি কার্ড ব্লক হওয়ায় আমরাও সবটা আগে থেকে জানতে পারছি না।"

