বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জেলা

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গল রক্ষায় কড়া প্রশাসন, চলল বুলডোজার

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬
শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গল রক্ষায় কড়া প্রশাসন, চলল বুলডোজার
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিশ্ব ঐতিহ্যের (ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) তকমা পাওয়া শান্তিনিকেতনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সোনাঝুরির জঙ্গল এবং সেখানকার বিখ্যাত খোয়াইয়ের হাট। সারা বছরই এখানে ভিড় থাকে। যদিও বন দপ্তরের জমিতে ব্যবসায়িক হাট বসার কোনও নিয়ম নেই বলেই অভিযোগ। পাশাপাশি জঙ্গলের ভিতরে গাড়ি প্রবেশ, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা ও পরিবেশ নষ্ট হওয়া নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছিল। যত্রতত্র চারচাকা গাড়ি ঢুকে পড়ায় নষ্ট হচ্ছিল জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশ। অবশেষে শান্তিনিকেতনের এই ঐতিহ্যবাহী সোনাঝুরি জঙ্গলকে বাঁচাতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল বন দপ্তর।

জঙ্গল রক্ষা করার এই অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল থেকেই সোনাঝুরি হাট এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়। বন দপ্তরের নির্দেশে এলাকায় নামানো হয় বুলডোজার। মূল উদ্দেশ্য ছিল, জঙ্গলের ভেতরে পর্যটক বা সাধারণ মানুষের চারচাকা গাড়ির প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। এই কারণে সোনাঝুরির জঙ্গলের ভেতরে ঢোকার একাধিক কাঁচা ও পাকা রাস্তা বুলডোজার দিয়ে মাটি কেটে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শয়ে শয়ে চারচাকা গাড়ি জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে পার্কিং করা হচ্ছিল। গাড়ির হর্ন, ধোঁয়া এবং পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বর্জ্যের কারণে সোনাঝুরির প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছিল। পরিবেশপ্রেমীরাও এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। শান্তিনিকেতন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলের পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষা করা প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই এই উচ্ছেদ ও রাস্তা বন্ধের সিদ্ধান্ত।
বন দপ্তরের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে এখন থেকে কোনো চারচাকা গাড়ি আর জঙ্গলের মূল সীমানার ভেতরে ঢুকতে পারবে না। পর্যটকদের গাড়ি নির্দিষ্ট দূরত্বে পার্কিং করতে হবে। তবে প্রশাসনের এই আকস্মিক অভিযানে সোনাঝুরির ব্যবসায়ী এবং ঘুরতে আসা পর্যটকদের একাংশের মধ্যে কিছুটা শোরগোল পড়ে যায়। যদিও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শান্তিনিকেতনের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এবং পরিবেশবিদেরা। এই বিষয় নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করেছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। মামলাটি এখন বিচারাধীন রয়েছে। সুভাষবাবু বলেন, জঙ্গলটি ধীরে ধীরে ব্যবসার চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। বন দপ্তরের এই পদক্ষেপ ইতিবাচক।

আরও জেলা খবর