জেলা
ছাত্রীদের দিয়ে গা টেপানোর অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: শান্তিপুরের মেলের মাঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল। স্কুল চলাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে জোর করে গা-হাত-পা টিপিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, উত্তেজিত জনতা প্রধান শিক্ষককে ঘরের ভেতর আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়িতে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের এই আচরণের কথা জানাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সেই ক্ষোভের আগুন আছড়ে পড়ে স্কুল চত্বরে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে দলে অভিভাবক ও এলাকার মহিলারা স্কুলে এসে জড়ো হন। প্রথমে প্রধান শিক্ষককে একটি ঘরে বন্দি করে চলে তুমুল বিক্ষোভ। এরপর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। উত্তেজিত মহিলা বিক্ষোভকারীরা একসময়ে ধৈর্য হারিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তাঁরা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে স্কুলের বারান্দায় বের করে আনেন এবং গণপিটুনি দিতে শুরু করেন।
গণপিটুনির জেরে স্কুল চত্বরে ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ এসে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্তাক্ত ও বিধ্বস্ত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। অবশেষে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। অভিভাবকরা জানান, এই স্কুলে বর্তমানে মাত্র দুজন শিক্ষক রয়েছেন এবং ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমে হাতে গোনা ২০ থেকে ৩০ জন এসে ঠেকেছে। দিন দিন পঠন পাঠনের মান খারাপের দিকে যাচ্ছে। বিদ্যালয়-এর এই পরিস্থিতির কারণে এলাকার মানুষ এখন আর বাচ্চাদের এই স্কুলে ভর্তি করতে চাইছেন না।
এই ঘটনায় ওই স্কুলেরই এক ছাত্রীর অভিভাবক শান্তিপুর থানায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য রয়েছে। যদিও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কৌশিক চক্রবর্তী জানান, এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের আমি খুব ভালোবাসি। আমাদের স্কুলের নিয়ম হল একজন ছাত্র কিংবা ছাত্রী স্কুলে এলেও বাড়ি ফেরানো যাবে না। আমি ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে গা-হাত-পা টেপাইনি কখনো।

