জেলা
বিশ্বভারতীতে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পোস্টার, তদন্তের দাবি
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিনিকেতন: কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতীর বিনয় ভবন ও সঙ্গীত ভবনের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এবার পোস্টার পড়ল শান্তিনিকেতন জুড়ে। বৃহস্পতিবার বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং আশ্রম এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেওয়ালে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নামে এই রহস্যময় পোস্টারগুলি চোখে পড়ে। আচমকা এই ধরনের বেনামি পোস্টার ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও অধ্যাপক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোরগোল তৈরি হয়েছে। প্রতিটি পোস্টারেই নিয়োগের ক্ষেত্রে চরম অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
ক্যাম্পাসের দেওয়ালে সাঁটানো এই পোস্টারগুলিতে সুনির্দিষ্টভাবে বিনয় ভবন ও সঙ্গীত ভবনের সাম্প্রতিক কিছু শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের তালিকায় স্বজনপোষণ এবং আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের এই অদ্ভুত ও বেনামি সংগঠনের ব্যানারে ওঠা অভিযোগগুলির কোনোটিরই সত্যতা বা সত্যনিষ্ঠা এখনো পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঠিক কে বা কারা রাতের অন্ধকারে এই পোস্টারগুলি দিয়ে গিয়েছে, সে বিষয়েও বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা রক্ষী বা স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি। এই ঘটনার পিছনে বিশ্ববিদ্যালয়েরই কোনো ক্ষুব্ধ গোষ্ঠী বা বহিরাগত কোনো চক্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।বেনামি এই পোস্টার বিতর্ক নিয়ে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান অবশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এই ধরনের কোনো নামহীন বা বেনামি পোস্টারে ওঠা কাল্পনিক অভিযোগের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো অফিশিয়াল মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেবে না।” তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতনের শান্ত পরিবেশ ও ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে যে নতুন করে ক্ষোভের আবহ তৈরি হচ্ছে, তা মানছেন আশ্রমিকদের একাংশ। বিশ্বভারতীতে নিয়োগ দুর্নীতির এই নতুন পোস্টার বিতর্ক আগামী দিনে জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

