বিনোদন
দিশা হত্যা রহস্যে এবার কাঠগড়ায় উদ্ধব-আদিত্য
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যু রহস্যের তদন্তে এবার এক নাটকীয় মোড়। ২০২০ সালের জুন মাসের সেই রহস্যমৃত্যুর ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর, বম্বে হাই কোর্টের কড়া নির্দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) একটি নতুন এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। আর সেই এফআইআর-এর তালিকায় নাম রয়েছে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, তাঁর ছেলে আদিত্য ঠাকরে, অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী, অভিনেতা ডিনো মোরিয়া এবং সুরজ পাঞ্চোলির মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বদের।
অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে দিশার এই রহস্যজনক মৃত্যুকে স্রেফ ‘আত্মহত্যা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বম্বে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মুম্বই পুলিশের পুরোনো তদন্তের চরম গাফিলতি নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেন পরিবারের হাতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তুলে দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে একাধিক ধোঁয়াশা রয়েছে। দিশার বাবার করা আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত এই কেন্দ্রীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়, যেখানে তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন যে তাঁর মেয়েকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল।
সিবিআই সূত্রে খবর, এই এফআইআর-এ সে সময়কার মুম্বই পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক পরমবীর সিং এবং বহিষ্কৃত পুলিশ অফিসার শচীন ওয়াজের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মামলার তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা, বয়ান বিকৃত করা এবং রাজনৈতিকভাবে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে এই প্রত্যেককে খুব শীঘ্রই জেরা করতে চলেছে সিবিআই। ২০২০ সালে সুশান্তের মৃত্যুর ঠিক এক সপ্তাহ আগে মলাডের এক বহুতল থেকে পড়ে গিয়ে দিশার মৃত্যু হয়েছিল। দীর্ঘ টালবাহানার পর এবার দিল্লির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জালে বলিউডের অন্দরমহল ও মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক শিবির কতটা কোণঠাসা হয়, সেটাই এখন দেখার।

