আগাছা মুক্ত করা
ফুলের বাগানে সুন্দরভাবে পরিচর্যা করলে যেমন সুন্দর সুরভিযুক্ত গোলাপ ও অন্যান্য ফুল পাওয়া যায় আবার পাশাপাশি অনেক আগাছাও জন্মাবে। বাগান পরিচর্যার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সর্বদা আগাছা সাফ করা। আমাদের জীবনযাপন পদ্ধতিকে আদর্শ ও সুন্দর করে তোলার অন্যতম পথ হলো অন্তরকে আগাছামুক্ত করা, ত্যাগব্রত পালন করা। এর জন্য অন্তরকে প্রতিনিয়ত পবিত্র রাখার চেষ্টা করতে হয়। বিভিন্ন বস্তু ও ব্যক্তির প্রতি আসক্তি ত্যাগ, ভোগবাদের আকাঙ্খাকে নিয়ন্ত্রণ করা হলো ত্যাগব্রতের প্রধান নিদর্শন। আমাদের অন্তরে ত্যাগের বহ্নিশিখা কখনও কখনও জ্বলে ওঠে কিন্তু আমরা আবার তার উপর সংসারের আবর্জনা জমা করতে থাকি ফলে ঐ বহ্নিশিখা নিভে যায়। ত্যাগ ও অনাসক্তির এই বহ্নিশিখা সর্বদা জ্বালিয়ে রাখতে হবে। কারণ দেহ ও মনের নানা মন্দ সংসর্গ এবং আমাদের অশুদ্ধ মনের সব বহির্মুখী প্রবণতাগুলির দ্বারা অন্তরের ঐ অগ্নি স্তিমিত হয়ে যাবার সবরকমের সম্ভাবনা থাকে। সংসার জীবনে আমাদের মনকে শুদ্ধ ও নির্মল রাখার সচেতন প্রয়াসের পরিবর্তে আমরা অপ্রয়োজনীয় ও অশুদ্ধ চিন্তায় মনকে ভরিয়ে ফেলি। অনাসক্তভাবে সুসমঞ্জস চিন্তার সামর্থ্য আমরা ক্রমশ হারিয়ে ফেলছি। আমাদের মনকে বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাখি সেইকারণে আমরা সর্বদা পীড়াদায়ক অসন্তোষে ভুগি। আমাদের অসংখ্য পরিকল্পনার মধ্যে ভাল পরিকল্পনাও থাকে কিন্তু সেগুলিকে সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলায়, অনাসক্ত হয়ে চিন্তা করার সামর্থ্য নেই। মনকে সংযত করতে হলে কতকগুলি নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলতেই হবে। বিনা বিচারে কারো সঙ্গে মেলামেশা থেকে বিরত হতে হবে। অপবিত্র মনের সংস্পর্শে থাকলে আমাদের হৃদয় ক্রমশ অপবিত্রতায় ভরে উঠবে। প্রকৃত ত্যাগ হলো অন্তরটিকে সর্বদা ঈশ্বরীয়ভাবে ভরিয়ে রাখা। এই ঈশ্বরপ্রীতি মানুষের প্রতি প্রীতিতে প্রকাশ পায়। এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের গড়ে তুলতে হবে।

