আসলে তুমি মৃত
মানুষের জীবনের পবিত্রতম প্রার্থনা শুধু একটিই—হে ঈশ্বর তোমার ইচ্ছাই পরিপূর্ণ হোক। তুমি শুধু চেয়ে যাও, কেঁদে যাও, আর এটা জেনো তোমার ইচ্ছা নয়, তাঁর ইচ্ছাই পূর্ণ হবে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে বলছেন, তোমারি ইচ্ছা করো হে পূর্ণ আমার জীবন মাঝে। আর এই জন্য আরো প্রার্থনা করতে হবে—আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে। যে অহংকারী সে প্রার্থনা করতে পারেনা। স্বর্গের দরজা এত নিচু যে হামাগুড়ি না দিয়ে ঢোকা যায় না সেখানে। মাথা উঁচু করে ধর্ম লাভ হয় না। ধুলোর মানুষ। ধুলোর মতো নম্র হতে শেখো। যীশুর গল্পে আছে—দুইজন ব্যক্তি মন্দিরে প্রার্থনা করতে গেল। একজন ফ্যারিসি আর একজন করগ্রাহক। ফ্যারিসি প্রার্থনা করার নামে শুধু নিজেরই গুনগান করতে লাগলো। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলো, হে ঈশ্বর যারা চুরি করে, প্রবঞ্চনা বা ব্যভিচার করে আমি তাদের দলে নই। এই যে করগ্রাহক এখানে দাঁড়িয়েছে আমি তার চেয়ে উঁচু। এজন্য আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমি ধর্মবিধি যথারীতি পালন করি। জীবনে বড় কোন জিনিস লাভ করলে তোমার পূজা দিই। সপ্তাহে দুদিন উপবাস দিই। আসলে এটি প্রার্থনার নামে আত্মস্তুতি, বাগাড়ম্বর। আর অন্যদিকে করগ্রাহক আকাশের দিকে সে চোখ তুললো না, শুধু বুকে করাঘাত করে বলতে লাগলো ভগবান আমি পাপী পাপীকে করুনা কর, করুণা কর। এই বুক ভাঙা আর্তনাদই আসল প্রার্থনা। এই গল্প বলেই যিশু বললেন, ফ্যারিসির চেয়ে করগ্ৰাহকই বেশি লাভ করে বাড়ি গেল। যে নিজেকে বড় করবে তাকে নিচু করা হবে আর যে নিজেকে নত করবে তাকেই উঁচু করা হবে। এটিই ঈশ্বরের বিধান। যে সরল, যে বিশ্বাসী, সে বাধ্য-বিনম্র। সে সহজেই ক্ষমা করতে পারে, পুরনো আঘাত সে মনে করে রাখে না। যে পুরস্কারের জন্য খাটে তার পুরস্কার মেলেনা। আসলে এই পৃথিবীতে অনেকেই শুধু জীবন বহন করে চলেছে , আসলে তারা মৃত। তারা আদর্শের কাছে মৃত। তারা দৈনন্দিন জীবনে নীচতায়, দীনতায়, হিংস্রতায় কলুষিত। তারা মরেছে স্বার্থের কাছে, মরেছে লোভে, মরেছে হিংসায়, ক্ষুদ্রতায়, মূঢ়তায়,অসাধুতায়। প্রতিমুহূর্তে মরেছে আত্মসম্মানের কাছে। অনেক বড় মানী তারা অথচ ব্যবহার করে দীনহীনের মতো, ভিক্ষুকের মতো। সত্যের কাছে মরে গিয়ে কেবলই ফাঁপিয়ে তোলে মিথ্যার বিপণী।

