হট টপিক
কৃত্রিম সূর্য তৈরিতে অভাবনীয় সাফল্য চীনের
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: সৌরশক্তিকে আরও বেশি করে মানুষের কাজে লাগাতে বিশ্বজুড়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে। তবে এই দৌড়ে বিশ্বের বাকি দেশগুলির থেকে আরও কয়েক যোজন এগিয়ে গেল চীন। মহাকাশের সূর্যকে এবার পৃথিবীতেই প্রতিস্থাপন করতে চাইছে শি জিনপিংয়ের দেশ। আর সেই লক্ষ্যেই এবার ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় প্রাথমিক সাফল্য দাবি করলেন চীনের বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিম সূর্য তৈরির ‘নিউক্লিয়ার ফিউশন’ প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশালাকার একটি সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট বা চুম্বক তৈরি করে ফেলেছেন তাঁরা।
চীনা বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স এই দানবাকৃতির চুম্বকটি তৈরি করেছে। যার দৈর্ঘ্য ২১ মিটার, প্রস্থ ১২ মিটার এবং ওজন প্রায় ৫৮২ টন। গবেষকদের দাবি, এটিই বিশ্বের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় ফিউশন রিঅ্যাক্টর সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট। এই বিশালাকার চুম্বকের মূল কাজ হল অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার প্লাজমাকে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা। এটি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমাকে রিঅ্যাক্টরের মূল দেওয়ালে স্পর্শ করতে বাধা দেবে এবং সম্পূর্ণ পরীক্ষামূলক ক্ষেত্রটিকে সুরক্ষিত রাখবে।
বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই কৃত্রিম সূর্য আসলে একটি শক্তিশালী ফিউশন রিঅ্যাক্টর। ঠিক যেভাবে মহাকাশের সূর্যের বুকে হাইড্রোজেন পরমাণুর সংযোজন ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, এখানেও সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় তাপমাত্রা ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি পৌঁছে যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এই প্রক্রিয়ায় কোনও কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয় না। ফলে ভবিষ্যতের দূষণহীন ও টেকসই পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রধান উৎস হিসেবে এই ফিউশন প্রযুক্তিকেই পাখির চোখ করেছে চীন।
ইতিমধ্যেই চীন তাদের এই কৃত্রিম সূর্য বা পোশাকি নাম ‘এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাডভান্সড সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক’ (EAST) প্রকল্পের মাধ্যমে এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। সেখানে ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় টানা ১,০৬৬ সেকেন্ড প্লাজমাকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সব ঠিকঠাক থাকলে, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা হবে বলে গবেষক দল আশাবাদী।

