পূরব ব্যানার্জীর কবিতা “ধর্মের চেয়ে বড় মানবতা” এবং “বিচার”
ধর্মের চেয়ে বড় মানবতা
পূরব ব্যানার্জী
আতঙ্কে আর ভয়ে মনোবল হারিয়ে বুদ্ধিমান যখন গোবেচারা,
বালির স্তূপে মুখ গুঁজে গেয়ে ওঠে,
সাম্প্রদায়িকতার জয়গান !!
ধর্মের বিভেদ টেনে যারা উন্নয়ন কে অগ্রাহ্য করে ,
বিভিন্নতার মাঝে মৈত্রী কে করে অস্বীকার !
রাজনৈতিক ক্ষমতা চরিতার্থে,
মাতৃভূমি কে টুকরো টুকরো করতেও যারা নির্লজ্জ !
অজানা অস্তিত্বের সঙ্কটে তাদেরই পদলেহনে খোঁজে মুক্তির পথ ,
বিবেক ,মানবতাকে কফিন বন্দী করে ।।
ফুলের কোনো ধর্ম নেই ,
অভুক্তের কাছে আহারের নেই কোনো সম্প্রদায়!
মুমূর্ষু অবস্থায় কেউ রক্তের ধর্ম খোঁজে না -----------
যুগে যুগে ধর্মভেদই হয়েছে সম্প্রীতির পথে অন্তরায় ।।
যে শিশুটি জন্মের পরে উন্মুক্ত আকাশের দিকে থাকে চেয়ে,
হাঁটতে গিয়ে মাটির গন্ধে পাই মায়ের ছোঁয়া !
ভীতির অলিন্দে সেই বুদ্ধিমান তখন তাকে শেখায় সম্প্রদায়ের পাঠ ,
নিষ্পাপ পবিত্র হৃদয়কে করে তোলে বিষাক্ত, পাশবিক !!
সৃষ্টির লগ্নে অবৈষম্যের পৃথিবীকে ,
ধর্মের অদৃশ্য প্রাচীর এঁকেছে ক্রমে সীমারেখার পরে সীমারেখা ,
ধর্মের প্রতিস্থাপনে মানবতা হয়েছে হিংস্র রক্তপিপাসু জান্তব !
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম মানব ধর্ম, সৌভাতৃত্বের বন্ধন শ্রেষ্ঠ মানব বন্ধন,
মানবতার কাছে যদি ধর্মের না হয় পরাজয়-------
একদিন পৃথিবী জেনো ধ্বংস হবে নিশ্চয়।।
বিচার
পূরব ব্যানার্জী
রাত্রির আঁধার কাটিয়ে, সূর্য উঠেছে ঝলমলিয়ে,
তবুও গহীন অন্ধকার পৃথিবীর বুক জুড়ে !
দগদগে ভিজে মাটি,
কবরের ওপরে এখনও এবড়োখেবড়ো আলগা ,
ভেতরে নিষ্প্রাণ দেহ ----------------
বিচারের প্রতীক্ষায় যুগান্তরের পথ চেয়ে !!
প্রতিদিনই সূর্য ওঠে,
সময়ের সাথে আমরাও ভুলে যায় ---------
অতীতের ক্ষত বিক্ষত যত !
পতাকার লাইনে সাজিয়ে নিই নিজেদের অবিকল একই ভাবে,
এ সমাজে পুরোনো পাপের হিসাব, কেই বা কবে মনে রাখে ।।
সেবারও রাতের আঁধারে লাশঘর থেকে,
শ্মশানে জ্বলেছিল চিতা নির্জনে,
ময়নাতদন্তের নামে, নাটকের শেষে !!
তারপরে কত ক্ষোভ বিক্ষোভ, কালোব্যাচ পরে মৌন্য মিছিলের ছড়াছড়ি ----------
পাওনাগণ্ডা বোঝাবুঝি,
চারে দুই, দুইএ এক, ধীরে ধীরে শান্ত সবাই !!
শুধু ময়নার মা আজও কেঁদে উঠে কর্কশ স্বরে মাঝে মাঝে রাতের আঁধারে,
মেয়েটা যে খুবই প্রিয় ছিল তার ।।
সাম্যের বিচারে আজও বড় বড় ফ্লেক্স পোস্টার ছাপে -------
বিচারের সাম্য সেই অর্থের জোরে,
একবিংশের চরম শিখরে পৌঁছেও ,
শতাব্দীর জ্বরা রোগে ধুঁকে !!
আমরা সংবিধান, মন্দিরে মসজিদে সাজিয়ে রেখে,
আজও সম্প্রদায়ের নামে রাজনীতির আখের গোছাই ।।

