বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

তিনদেশের মধ্যে বেছে নেওয়া আমেরিকার জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে নায়ক বালোগান!

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬
তিনদেশের মধ্যে বেছে নেওয়া আমেরিকার জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে নায়ক বালোগান!
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: সোফি স্টেডিয়ামের গ্যালারি তখন মার্কিন সমর্থকদের গগনবিদারি চিৎকারে কাঁপছে। মাঠের সবুজ ঘাসে দাঁড়িয়ে দুই হাত ছড়িয়ে সেই উন্মাদনা গায়ে মাখছেন এক তরুণ স্ট্রাইকার— ফোলারিন বালোগান। ফিফা বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের মহাকাব্যিক জয়ের রাতে জোড়া গোল করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নায়ক এখন তিনিই। তবে এই তরুণ ফুটবলারের বিশ্বমঞ্চের নায়ক হয়ে ওঠার গল্পটা আর পাঁচটা সাধারণ কাহিনীর মতো নয়। এটি এমন এক গল্প, যা ফুটবল ইতিহাসের এক অদ্ভুত মোড় এবং রোমাঞ্চে ভরা। 

ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিলেন বালোগান। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিং এবং আক্রমণাত্মক ড্রিবলিংয়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্স। জোড়া গোল করে তিনি শুধু দলকে বড় জয়ই এনে দেননি, বরং বিশ্বমঞ্চে ফুটবলার হিসেবে নিজের জাত নতুন করে চেনালেন। অথচ, ভাগ্যের চাকা একটু অন্যভাবে ঘুরলে আজ হয়তো ফুটবল মানচিত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি দেখা যেতে পারত।
বালোগানের জীবন এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার একেবারেই ভিন্ন পথে যেতে পারত, কারণ তাঁর সামনে খোলা ছিল তিনটি দেশের দরজা। প্রথম দেশ ইংল্যান্ড। লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা বালোগানের। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি যোগ দেন বিখ্যাত আর্সেনাল ক্লাবের অ্যাকাডেমিতে। দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে অনূর্ধ্ব-২১ দল পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই হ্যারি কেনদের দেশ ইংল্যান্ডই হতে পারত তাঁর মূল ঠিকানা।
দ্বিতীয় নাইজেরিয়া। বালোগানের বাবা-মা নাইজেরিয়ার বাসিন্দা। ফলে শিকড়ের টানে আফ্রিকার এই ফুটবল পরাশক্তির হয়ে খেলার বিশাল সুযোগ ও আমন্ত্রণ ছিল তাঁর সামনে।
তৃতীয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তিনটি দেশের মধ্যে শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নেন আমেরিকাকে। নাইজেরিয়ান দম্পতির সন্তান বালোগান আসলে নিউ ইয়র্কে জন্মেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ফিফার বিশেষ অনুমোদন নিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলকে নিজের চিরস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।
তিনটি দেশের নাগরিকত্ব বা খেলার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আমেরিকার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, সোফি স্টেডিয়ামের এই জাদুকরি রাতই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে বালোগান বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করতেই তাঁর আগমন। এই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের পর মার্কিন ফুটবলপ্রেমীরা এখন বালোগানের পায়ে ভর করেই বিশ্বকাপে আরও বড় স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেছেন।