হোমস্টের অবস্থা নিয়ে রিপোর্ট তলব, আসছে নতুন নীতি
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পাহাড়ের পর্যটনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সাম্প্রতিক সিটংয়ের বিতর্কিত ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের সমস্ত হোমস্টেগুলির বর্তমান অবস্থা, পরিকাঠামো এবং আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখতে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা প্রশাসনের কাছে বিশদ রিপোর্ট চাইল নবান্ন। বুধবার শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কড়া বার্তার কথা জানান রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, পাহাড়ি পর্যটনের প্রসারে ও পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে শীঘ্রই রাজ্যে একটি নতুন 'হোমস্টে পলিসি' বা হোমস্টে নীতি প্রকাশ করা হতে চলেছে।
পর্যটন দফতর সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সিটংকাণ্ডের পর পাহাড়ের বহু হোমস্টের লাইসেন্স, বহিরাগতদের আনাগোনা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, নিয়মের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো হোমস্টে গড়ে উঠছে। এই বিশৃঙ্খলা রুখতেই দুই পাহাড়ি জেলার জেলাশাসকদের দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু কড়াকড়িই নয়, পাহাড়ের স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন ব্যবসার প্রসারের কথা মাথায় রেখে নতুন নীতিতে বড়সড় ছাড়ও দিতে চলেছে সরকার। পর্যটনমন্ত্রী জানান, আসন্ন নতুন হোমস্টে পলিসিতে একটি হোমস্টেতে সর্বোচ্চ ঘরের সংখ্যা (রুম ক্যাপাসিটি) বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন পর্যটকেরা বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবেন, তেমনই হোমস্টে মালিকদেরও উপার্জনের পরিধি বাড়বে। তবে ঘর বাড়ানোর ছাড়পত্র দিলেও, সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো, পর্যটকদের পরিচয়পত্রের সঠিক নথি রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির মতো কড়া নিরাপত্তা বিধি মানা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

