হট টপিক
ট্রাম্পের জামাই কুশনারের বিলাসবহুল রিসর্ট নিয়ে উত্তাল আলবেনিয়া
প্রকাশিত: ৫ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনারের এক বিলাসবহুল রিসর্ট প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তীব্র গণবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের দেশ আলবেনিয়া। সময় যত এগোচ্ছে, বিক্ষোভের আগুন ততই ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, রাজধানী তিরানার রাজপথে নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়েছে। আন্দোলনকারী ও পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজধানী।
এই নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্যারেড কুশনারের সংস্থা 'অ্যাফিনিটি পার্টনার্স'-এর একটি মেগা রিয়েল এস্টেট প্রকল্প। আলবেনিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি) বিনিয়োগ করে একটি অতি-বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই মেগা প্রজেক্টের আওতায় প্রায় ১০,০০০টি অত্যাধুনিক কক্ষ বিশিষ্ট বিশাল রিসর্ট এবং ১০০টিরও বেশি বিলাসবহুল ভিলা তৈরি করা হবে।
কিন্তু এই প্রকল্পের ছাড়পত্র মেলামাত্রই পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। পরিবেশবিদদের দাবি, এই বিশাল নির্মাণের ফলে স্থানীয় সুরক্ষিত জলাভূমি ও অরণ্যের জীবজগৎ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। বিতর্কিত অঞ্চলটি মূলত পরিযায়ী পাখিদের চারণভূমি হিসেবে পরিচিত। এই রিসর্ট তৈরি হলে ফ্লেমিঙ্গো পাখির বাসস্থান ধ্বংস হবে। প্রতি বছর হাজার হাজার ফ্লেমিঙ্গো বা রাজহাঁস এখানে আসে, যা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। সামুদ্রিক কচ্ছপের ক্ষতি হবে। বিপন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপদের ডিম পাড়ার প্রধান সৈকতগুলো এই কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে যাবে। মনক সিল (Monk Seals) বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এই বিশেষ প্রজাতির সিলের প্রজনন ক্ষেত্র ও আশ্রয়স্থল চিরতরে হারিয়ে যাবে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আলবেনিয়া সরকার দেশের পরিবেশ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবং কোনো আন্তর্জাতিক পরিবেশগত সমীক্ষা না করেই শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা লুটতে এই বিতর্কিত প্রকল্পে সায় দিয়েছে। সরকার দাবি করছে, এই প্রকল্পের ফলে দেশে পর্যটন ব্যবসার ব্যাপক উন্নতি হবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তবে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে এই ধরণের কর্পোরেট উন্নয়ন সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি নন। রাজপথের এই আন্দোলন এখন আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছে।

