জাতি গঠনের ভিত্তি
"ধ্রুব ভারত" পুস্তিকায় আচার্য স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ ভবিষ্যতের ভারতীয় জাতি গঠনের আদর্শ সম্পর্কে তাঁর ভাবনাগুলি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি পরাধীন ভারতবাসীকে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জর্জরিত হিন্দুজাতিকে আশ্বাসবাণী শুনিয়ে বললেন —ভারত আর সুদীর্ঘকাল প্রসুপ্ত থাকবে না; ভারত আবার জাগবে, আবার উঠবে, আবার ধর্মকে ভিত্তি করে ভারত জগতগুরুর আসনে উপবেশন করবে। এই ধর্মের স্বরূপ হবে — ত্যাগ, সংযম, সত্য, ব্রহ্মচর্য। আলস্য, নিদ্রা, তন্দ্রা, জড়তা ত্যাগ করে ,রিপু ও ইন্দ্রিয় সংযম করে আত্মোপলব্ধি ও মহামুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কাপুরুষতা, সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে বীরত্ব, পুরুষত্ব, মনুষ্যত্ব ও মুমুক্ষুত্ব অর্জন করতে হবে। তিনি ভারতীয় জাতির আত্মস্মৃতি জাগানোর জন্য বললেন —"ভারত! ভুলিও না - তুমি ঋষির বংশধর। তোমার ধর্ম, সমাজ, জাতীয়তা, ঋষির দিব্যহস্তে রচিত, ঋষির সনাতন অনুশাসনে অনুশাসিত, পরিচালিত। তোমার জাতীয় জীবনের প্রত্যেকটি কর্তব্য ঋষিনির্দিষ্ট। ত্যাগ সংযম সত্য ব্রহ্মচর্য তোমার জাতীয় জীবনের আদর্শ। ওই আদর্শকে প্রাণপণে আঁকড়ে ধরো পড়ে গেলেও তোমার বিনাশ নেই। ব্রহ্মচর্য অবলম্বন কর, তোমার জাতীয় জীবনের স্তরে স্তরে ব্রহ্মচর্যের অমোঘ বীর্য ও অক্ষয় ওজঃ বিদ্যুৎগতিতে সঞ্চরণ করতে দাও, ভারত আবার সোনার ভারতে পরিণত হবে।" সুতরাং আমাদের খুব ভালো করে বুঝতে হবে ধর্মের ভিত্তিতে জাতি গঠনের যে ডাক স্বামী প্রণবানন্দ দিয়েছিলেন তার প্রকৃত স্বরূপ কি। এ ধর্ম কোন পৈশাচিক উল্লাসের ধর্ম নয়, এ ধর্ম ডিজে বাজিয়ে হৈ হুল্লোড়ের ধর্ম নয়, এই ধর্ম প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার ধর্ম। মানুষগুলো যদি চরিত্রবান হয়ে গড়ে ওঠে স্বাভাবিকভাবেই ভারতবর্ষ আবার জগতগুরুর আসনে উপবেশন করবে।

