কৌশিকী অমাবস্যার আগে বীরভূমে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ এখনও কাটেনি। শোকস্তব্ধ বীরভূমের এই আবহেই আগামী শনিবার জেলা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর হাই-প্রোফাইল সফর, আর অন্যদিকে আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যায় লক্ষ্য লক্ষ্য পুণ্যার্থীর বিপুল সমাগম—এই দুই বড় চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল জেলা প্রশাসন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং দুর্ঘটনা রোধে কড়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে মঙ্গলবার রামপুরহাটের রক্তকরবী পুরমঞ্চে এক জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক সারলেন উচ্চপদস্থ কর্তারা।তারাপীঠের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর কোনো ফাঁকফোকর রাখতে রাজি নয় নবান্ন ও জেলা প্রশাসন। ফায়ার সেফটি বা অগ্নি-নির্বাপণ বিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তারাপীঠের অন্তত ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলিকে কড়া নোটিস পাঠানো হয়েছে।
উৎসবের আগে তারাপীঠের সমস্ত হোটেল, গেস্ট হাউস এবং হোমস্টে-র অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ও ইলেকট্রিক ওয়ারিং খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ যৌথ পরিদর্শন দল (Joint Inspection Team) গঠন করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর এই বীরভূম সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। বিশেষ করে তারাপীঠের ঘটনার পর প্রশাসনিক স্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। ফলে তাঁর সফরের সময় আইন-শৃঙ্খলা ও পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে উপচে পড়বে লাখ লাখ ভক্তের ভিড়। একদিকে ঘিঞ্জি রাস্তাঘাট এবং হোটেলগুলির পরিকাঠামোগত ত্রুটি মেরামত, অন্যদিকে ভিড় নিয়ন্ত্রণ—এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ প্রশাসন রক্তকরবী পুরমঞ্চের বৈঠক থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, পুণ্যার্থীদের সুরক্ষাই শেষ কথা। অস্থায়ী দমকল কেন্দ্র, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং মেডিকেল ক্যাম্পের সংখ্যাও বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে। তারাপীঠের ক্ষত দগদগে থাকা অবস্থাতেই এই জোড়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশাসন কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।

