বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ‘ছোট বোন’ বলে সম্বোধন মোদির

প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ‘ছোট বোন’ বলে সম্বোধন মোদির
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারত ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি এবার উঠে এল এক অনন্য ব্যক্তিগত রসায়নের ছবি। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে আয়োজিত ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক লক্ষ্য করা গেল, তা রাজনৈতিক বৃত্তের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচিকে (Sanae Takaichi) ‘ছোট বোন’ হিসেবে সম্বোধন করে এক নতুন নজির স্থাপন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)।

যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত স্নেহের সাথে "মহামান্য এবং আমার ছোট বোন, প্রধানমন্ত্রী তাকাচি" বলে সম্বোধন করেন। মোদির এই উষ্ণ আন্তরিকতার প্রত্যুত্তরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদি, আপনি আমাকে আপনার 'সুন্দর ছোট বোন' বলে ডেকেছেন। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগেই আমরা ভাই-বোনের মতো এই পারিবারিক সম্পর্কের চেতনা গড়ে তুলতে একমত হয়েছি।" 
এর আগে ভারতে পৌঁছানোর পর তাকাচির ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জবাবেও মোদি সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে ‘ছোট বোন’ হিসেবে স্বাগত জানান। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনন্য সম্বোধনের পেছনে রয়েছে এক গভীর আবেগঘন প্রেক্ষাপট। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাপানের প্রয়াত ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে-কে নিজের বড় ভাইয়ের মতো মনে করতেন এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন সানায়ে তাকাচি। অন্যদিকে, শিনজো আবের সাথে প্রধানমন্ত্রী মোদির বন্ধুত্বও ছিল সুবিদিত। বৈঠকে তাকাচি মোদিকে জানান, যেহেতু আবে সানের সাথে মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, তাই এখন থেকে তিনি মোদিকেই নিজের ‘বড় ভাই’ হিসেবে মনে করেন। এই কথোপকথনের পরই দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে মোদি তাকাচিকে ‘ছোট বোন’ সম্বোধন করেন।
ব্যক্তিগত রসায়নের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকেও এই সম্মেলনে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১৬তম এই বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত ও জাপান তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথমবার যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির (Defense Co-development project) ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। দুই দেশ সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খল, জটিল খনিজ সম্পদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং পরবর্তী প্রজন্মের উদীয়মান প্রযুক্তির সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার জন্য রোডম্যাপ তৈরি করেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং একটি 'মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক' (FOIP) অঞ্চল গড়ে তুলতে দুই নেতাই কোয়াড (Quad) সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
১২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শেষ হওয়া এই সম্মেলন প্রমাণ করল যে, ভারত ও জাপানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বন্ধুত্ব এখন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও পারিবারিক আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।