সর্বশেষ খবর
জট কাটছে বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর রেলপথের, বাঁকুড়ায় ১১টি নতুন আন্ডারপাস
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া: বাঁকুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর এবং ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথ নির্মাণের জট অবশেষে কাটতে চলেছে। থমকে থাকা এই রেল প্রকল্প দুটিকে দ্রুত বাস্তবায়িত করতে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে রেলের আদ্রা ডিভিশনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভূমি ও বনদপ্তরের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। রেললাইন পাতার ক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত বাধা রয়েছে, তা দূর করতেই এই যৌথ উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।
রেলপথ নির্মাণের পথে প্রধান অন্তরায়গুলি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসনের তরফে রেল দপ্তরকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, জমি অধিগ্রহণ বা বনাঞ্চলের ছাড়পত্র সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সবরকম প্রশাসনিক সাহায্য করা হবে। দুই দপ্তরের এই ইতিবাচক সমন্বয় রেল প্রকল্পের কাজকে অনেকটাই গতি দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এর পাশাপাশি, রেল যোগাযোগের সুরক্ষায় বাঁকুড়া জেলায় এক বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রেল দপ্তর। জেলার মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বর্তমান লেভেল ক্রসিংগুলি তুলে দিয়ে সেখানে আধুনিক আন্ডারপাস (সাবওয়ে) তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রেল লাইনের ওপর দুর্ঘটনা যেমন কমবে, তেমনই মসৃণ হবে স্থানীয় সড়ক যোগাযোগও।
এই ১১টি আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ শুরু করার জন্য ইতিমধ্যেই রেলের তরফে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ‘এনওসি’ (No Objection Certificate) চাওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি এবং ভৌগোলিক অবস্থান দ্রুত খতিয়ে দেখে খুব কম সময়ের মধ্যেই রেলকে এই ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জট কাটিয়ে এই দুই রুটে দ্রুত ট্রেন চলাচল শুরুর আশায় বুক বাঁধছেন বাঁকুড়া ও শিল্পাঞ্চলের মানুষ। জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, বেলিয়াতোড়-বড়জোড়ার জঙ্গলে হাতির করিডর বাঁচিয়ে রেলপথ নির্মাণ হবে। বাঁকুড়া-মশাগ্রাম শাখার বেলিয়াতোড় স্টেশন থেকে জঙ্গলের পাশ দিয়ে বড়জোড়া হয়ে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন পাতা হবে। ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের প্রস্তাবিত এলাকা ফের সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। ওই রেলপথের কাজও অদূর ভবিষ্যতে শুরু হবে।

