পূরব ব্যানার্জীর কবিতা “আমি মহাকালের কবি” এবং “মহেঞ্জোদারো”
মহেঞ্জোদারো
পূরব ব্যানার্জী
মৃত সভ্যতা, উধাও মানবতা ----------
সংস্কৃতি, শালীনতা, সৌজন্যতাবোধ,
কুরুক্ষেত্রসম যুদ্ধে ইতিহাসের পাতায় আজ অলংকার স্বরূপ !!
শৃঙ্খলতা স্নেহ মায়া মমতা শ্রদ্ধা ভালোবাসা,
বেমালুম উধাও উন্মত্ত জনতার ভিড়ে ভিড়ে !!
ধর্মের নামাবলী গায়ে, তিলকধারী ----------
অন্ধ ধর্মযোদ্ধা চারিদিকে কাতারে কাতারে ।।
আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এর চেয়েও ভয়ঙ্কর মৌল্যবাদ,
পশ্চিমের মসজিদ হয়ে, মন্দিরের ঘন্টাধ্বনির সাথে মিশে ---------
অনাদি অনন্ত সনাতনী চিন্তাধারাকে কফিনে বন্দী করে,
অনুগ্রহ কপোটতা আর চতুরতার পাঠ শেখায়------
পুরুষোত্তম বীরের জন্মভূমে ।।
আমি মহাকালের কবি
পূরব ব্যানার্জী
আমার কলম শাণিত অস্ত্র জেনো
শব্দ আমার বিষাক্ত বারুদের স্তূপ ।
আমি কবি নয় ,আমি হিংস্র বিপ্লবী
মৃত্যুর সাথে লড়াইয়ে থাকি সম্মুখ।।
যত দলিত নিপীড়িত দুর্বলের নীরব মুখ
যত ধর্ষিত নারীর আমি ভৈরবী কণ্ঠস্বর ।
মানবতা আর সামাজিকতার লাস খুঁজে
উগ্রবাদের সাথে হয় সখ্যতা ফি বছর ।।
বাহুবলী যারা ,পালোয়ান স্বাস্থ্যবীর -
তোষামোদে তারা থাকুক রাজার সাথে ।
আমি লড়ে যাবো পঙ্গুতা ভুলে গিয়ে ,
মৃত্যু হলে হবে বীরসম রাজপথে ।।
নির্দয়ী আমি যত নিপীড়কের দরবারে
কলম আমার বিচার মানে না কোনো ।
ভ্রষ্টাচার আর মেকী সততার মুখোশ ছিঁড়ে
আমি তছনছ করি মহাকাল সম জেনো ।।
আমি মহাকাল! আমি ভয়ঙ্কর নটরাজ
রাত্রির কান্নায় আমি নিদ্রা হতে জাগি ।
নাম যশ আর কীর্তি কে ধুৎকার করে
অপরাধী হয়ে অন্যায়ের কপাট ভাঙি ।।

