মুর্শিদাবাদে ধৃত অবৈধ বাংলাদেশি পরিবার, রয়েছে আধার-ভোটার কার্ডও
রিচা দত্ত, মুর্শিদাবাদ: সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে ১৩ বছর ধরে সংসার পেতেছিল বাংলাদেশি পরিবার। অবশেষে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থেকে একই পরিবারের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। জমি কিনে বাড়ি, ছেলেদের স্কুলে ভর্তি, এমনকি আধার ও ভোটার কার্ডও বানিয়ে ফেলেছিল ধৃত উজির আলি।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে সাগরদিঘি থানার পুলিশ ধুমারপাহাড় এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই আটক করা হয় পুরো পরিবারকে। শনিবার ধৃতদের সুতি থানার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলেন: উজির আলি (৪৩) পরিবারের কর্তা, জাইনুর খাতুন (৩৬)– স্ত্রী , শিহাদ শেখ (১৫) – বড় ছেলে, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, ইনজামুল হক (১০)– মেজো ছেলে, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র, আব্দুল সামাদ শেখ (৪) – ছোট ছেলে ।
তাদের আসল বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।
জেরায় উজির আলি জানায়, ১৩ বছর আগে এক ছেলেকে নিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকে সে। পরে এখানেই আরও দুই সন্তানের জন্ম হয়। দক্ষিণ ভারতে রাজমিস্ত্রীর কাজ করত উজির। ধুমারপাহাড়ে ১৫ শতক জমি কিনে পাকাপাকি বাড়ি বানায়। চমকের এখানেই শেষ নয়—ভারতীয় ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডও জোগাড় করে ফেলেছিল সে। বড় দুই ছেলেকে স্থানীয় স্কুলেও ভর্তি করিয়েছিল।
ধৃতদের বিরুদ্ধে বিদেশি আইনে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশের তদন্তে উঠে আসছে দুটি বড় প্রশ্ন:
1. কীভাবে তৈরি হল ভুয়ো আধার-ভোটার কার্ড?
2. এই চক্রের পিছনে আর কারা জড়িত?
জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, _“সীমান্তবর্তী জেলায় অনুপ্রবেশ রুখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। এই ধরনের অভিযান চলবে।”
ভোটার-আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হাতে চলে যাওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের। কীভাবে এই জালিয়াতি হল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

