আপনার সঙ্গীর পায়ের গঠন বলে দেবে প্রতারণা করছে কিনা!
বিশেষ প্রতিবেদন: জ্যোতিষশাস্ত্র এবং বিশেষ করে সামুদ্রিক শাস্ত্র যার মাধ্যমে মানুষের শারীরিক গঠন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখে চরিত্র বিচার করা হয়। শাস্ত্র অনুসারে, মানুষের পায়ের পাতার গঠন বা আঙুলের আকার দেখে তাঁর স্বভাব ও মানসিকতার ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব। তবে জ্যোতিষবিদেরা স্পষ্ট করে বলেন যে, সরাসরি শুধু পায়ের পাতা দেখেই কেউ "পরকীয়া করছে কি না" তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
সমুদ্রশাস্ত্র এবং বৈদিক জ্যোতিষ এই বিষয়ে যা বলে, তা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
সমুদ্রশাস্ত্র বা অঙ্গ লক্ষণ বিদ্যা কী বলে?
সামুদ্রিক শাস্ত্রে পায়ের আঙুলের দীর্ঘতা এবং ফাঁকের ওপর ভিত্তি করে মানুষের আকর্ষণ ক্ষমতা এবং চঞ্চলতা বিচার করা হয়।
অস্বাভাবিক লম্বা আঙুল: শাস্ত্রে বলা হয়, কারও পায়ের আঙুল যদি সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি লম্বা এবং পাতলা হয়, তবে তাঁদের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ এবং একাকীত্ব কাটানোর প্রবণতা বেশি থাকে। এরা স্বভাবগতভাবে খুব চতুর বা কৌশলী হতে পারেন।
আঙুলের মধ্যে অতিরিক্ত ফাঁক: বুড়ো আঙুল এবং দ্বিতীয় আঙুলের (তর্জনী) মধ্যে যদি বেশি ফাঁক থাকে, তবে শাস্ত্রে তাঁদের কিছুটা স্বাধীনচেতা ও চঞ্চল প্রকৃতির মনে করা হয়। এরা অনেক সময় নিজের আবেগ সহজে ধরে রাখতে পারেন না।
মাটি না ছোঁয়া আঙুল: হাঁটার সময় যদি অনামিকা বা কনিষ্ঠা আঙুল মাটি স্পর্শ না করে, তবে প্রাচীন সংহিতায় তাঁদের দাম্পত্য জীবনে স্থায়িত্বের অভাব বা সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতো।
বৈদিক কোষ্ঠী বা জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলে? জ্যোতিষীদের মতে, পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জন্য শরীরের অঙ্গের চেয়ে মানুষের জন্মকুণ্ডলী বা কোষ্ঠীর গ্রহগত অবস্থান অনেক বেশি দায়ী।
শুক্র ও মঙ্গলের অবস্থান: জ্যোতিষশাস্ত্রে শুক্র হলো প্রেম, কাম ও আকর্ষণের গ্রহ এবং মঙ্গল হলো লালসার প্রতীক। জন্মছকে শুক্র ও মঙ্গল যদি রাহু বা কেতুর মতো ছায়া গ্রহ দ্বারা প্রভাবিত বা পীড়িত হয়, তবে মানুষের মনে গোপন সম্পর্কের ইচ্ছা তীব্র হয়।
দ্বাদশ এবং সপ্তম ভাব: কুণ্ডলীর সপ্তম ভাব (বিবাহের ঘর) এবং দ্বাদশ ভাব (শয্যাসুখ ও গোপন বিষয়ের ঘর) যদি অশুভ গ্রহের নজরে থাকে, তবে জাতক বা জাতিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা হারাতে পারেন।জ্যোতিষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আধুনিক জ্যোতিষ বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রশাস্ত্রের এই নিয়মগুলি মানুষের আদিম কিছু মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের (যেমন অস্থিরতা বা অতিরিক্ত কামভাব) রূপক মাত্র। শুধুমাত্র পায়ের গঠন দেখে কাউকে সরাসরি "প্রতারক" বা "পরকীয়া লিপ্ত" বলে দেওয়া ভুল এবং কুসংস্কারের শামিল। কোনো মানুষের চরিত্র বুঝতে তাঁর মানসিকতা ও চারিত্রিক সততাই আসল।

