হট টপিক
দু'বছর পর কাজের যোগ দিলেন তৃণমূল আমলের প্রতিবাদী কর্মী
প্রকাশিত: ৫ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে নবান্ন অভিযানে গিয়ে চাকরি থেকে সাসপেন্ড হয়েছিলেন কাঁকসা বিডিও কার্যালয়ের ক্লার্ক পদে কর্মরত শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর কেটেছে দীর্ঘ সময়। অবশেষে প্রায় দু’বছর পরে বৃহস্পতিবার ব্লক অফিসে কাজে যোগ দিলেন তিনি। সেদিনের সংগ্রামী মঞ্চের সহযোদ্ধা থেকে সহকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
জানা যায়, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনার প্রতিবাদে গত বছর আগস্ট মাসে ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’-এর ডাকে নবান্ন অভিযানে শামিল হয়েছিলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যেরাও। তাঁরা হাওড়া স্টেশন থেকে ফরশোর রোড হয়ে নবান্নের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধি শুভঙ্কর অন্যান্য আন্দোলনকারীর সঙ্গে যখন হাওড়া ময়দান এলাকায় এসে পৌঁছান, তখনই পুলিশের সঙ্গে গন্ডগোল শুরু হয় তাঁদের। পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আহত হন শুভঙ্কর। তবে উল্টে পুলিশকে মারধরের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া থানার পুলিশ। প্রথমে হাওড়া আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক শুভঙ্করকে এক দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পরে ফের শুভঙ্করকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। তারপর থেকে হাওড়া থানায় পুলিশ হেফাজতে ছিলেন শুভঙ্কর।
কিন্তু গ্রেপ্তারের পরেই শুভঙ্কর অনশন শুরু করেছিলেন। জল পর্যন্ত স্পর্শ করেননি। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ভর্তি করানো হয়েছিল হাওড়া হাসপাতালে। ফের তাঁকে হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক শুভঙ্কর সহ ২৩ জনের জামিনের আর্জি গ্রহণ করেন। জামিনে মুক্তির পর বিডিও অফিসে কাজে যোগদান করতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু তখন তাঁকে সাসপেন্ড লেটার দেওয়া হয়। শুভঙ্কর তখন বলেছিলেন, আমাকে জানানো হয়েছে গ্রেপ্তারের পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কোথাও দেখা যায়নি আমি কারোর গায়ে হাত দিয়েছি।
এদিন অবশ্য কাজের জায়গায় ফিরতেই শুভেচ্ছা জানান সহকর্মীরা। সেদিনের সহযোদ্ধারাও এসেছিলেন তাঁর পাশে থাকার জন্য। ফুলের মালা পরিয়ে সম্মান জানান। শুভঙ্কর বলেন, একমাস কম দু’বছর হল। আরজিকরের ঘটনা ও রাজ্যবাসীর বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলাম। তার পুরস্কারস্বরূপ জেলে বন্দী, কেস দেওয়া, চাকরি কীভাবে কেড়ে নেওয়া যায় তার চক্তান্তও করা হয়েছিল। আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল ‘চোরামূল’ যতক্ষণ না শেষ হচ্ছে আর ‘ওনাকে’ গঙ্গার জলে ফেলে দিচ্ছি ততক্ষণ আমরা নিশ্চিন্তে বসব না। এদিন সহযোদ্ধা রাজীব দত্ত বলেন, কর্মক্ষম মানুষকে বসিয়ে দিলে বেতন অর্ধেক হয়ে যায়। পারিবারিক অর্থনৈতিক সমস্যা হয়। কিন্তু তারপরেও শুভঙ্কর সামনে থেকে লড়াই করেছে। সহকর্মী উৎপল গড়াই বলেন, খুব আনন্দ হচ্ছে শুভঙ্কর আসছে। একসঙ্গে আবার কাজ করতে পারব।

