সুখ দুঃখের জননী
আমাদের জীবন হল সুখ দুঃখের অসম বিভাজন। প্রকৃত জ্ঞানী মানুষ জানেন নির্ভেজাল সুখ বা নির্ভেজাল দুঃখ বলে কিছু নেই। এটি একটা আবর্তন, একটা চাকার মত। এই সুখ তো, আবার দুঃখ, এই আলো আবার অন্ধকার। আমাদের ভ্রান্তির উৎস হল তিনটি গুণ—সুখ, দুঃখ,মোহ। এই জগতের স্রষ্টা তাঁর জগতের নিরূপাধিক স্বরূপ আবৃত করে রাখে। এরই নাম মায়া। এই মায়া দুরতিক্রমণীয়। স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ গীতার সপ্তম অধ্যায়ে বলেছেন,দৈবী হ্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত্বয়া। তবে এই মায়া দুরতিক্রম্য হলেও একে অতিক্রম করা যায় কিভাবে সেকথাও শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে। শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন, ঈশ্বরকে জানলে আর সব জানা হয়ে যায়। আর একটি সংশয়—সব জানা তাহলে কী? অনেক রকমের জানা আছে। শ্রীরামকৃষ্ণ বললেন, ঈশ্বরই বস্ত আর সব অবস্তু। এইটাই হল জানা। আমি খাই দাই আর থাকি আর আমার মা সব জানেন। আমার নিজস্ব কোন অনুসন্ধান নেই। মানব জীবন যেন একটি তরঙ্গ ধারণকারী গ্রাহকযন্ত্র বা রিসিভার। একদিকে আমাদের ইন্দ্রিয়,আর অন্যদিকে প্রাপ্তি। কখনো সুখ হচ্ছে দুঃখেরই নামান্তর আবার কখনো সুখ নয়, দুঃখই হচ্ছে সুখের নামান্তর। এই দুটির জননী হলেন মায়া। আর সব মানুষেরই অপর নাম স্বভাব। শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন,উট কাঁটা গাছই খাবে, রক্তক্ষরণ হলেও খাবে। অর্থাৎ শ্রীরামকৃষ্ণ উটের স্বভাবযুক্ত মানুষকেই খুঁজে পেয়েছেন। আরও খুঁজলে পাওয়া যাবে সেই অমোঘ সত্য —সংসার দুঃখের আগার। ইন্দ্রিয় মানুষকে কোনভাবেই নির্ভেজাল সুখের আস্বাদন দিতে পারবে না। তার জন্যই চাই চৈতন্য। চৈতন্যের আলোতে বিচার এবং সেই বিচারের চাবিতে দরজা খুলতে পারলে দেখা যাবে তিনি বসে আছেন। তাই শ্রীকৃষ্ণ বললেন —"মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে।" জয় জগন্নাথ মহাপ্রভু।

