গ্রুপ সি ১৫ লাখ, গ্রুপ ডি ১২ লাখ! চাকরি বিক্রির ‘রেট চার্ট’ ফাঁস করল ইডি
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলা স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগ দুর্নীতিতে চাঞ্চল্যকর মোড়। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায় বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে ইডির জমা দেওয়া নতুন চার্জশিট ফের বড়সড় অস্বস্তি বাড়াল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি) দাবি করেছে, কোনও যোগ্যতা বা মেধা নয়, একেবারে সুনির্দিষ্ট ‘রেট চার্ট’ বা মূল্য তালিকা মেনেই বিক্রি হয়েছিল সরকারি চাকরি!
কলকাতার বিশেষ পিএমএলএ আদালতে জমা দেওয়া ইডির এই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে পার্থ-অর্পিতা ছাড়াও কুন্তল ঘোষ এবং প্রসন্ন রায়ের মতো মিডলম্যানদের নাম রয়েছে। চার্জশিটে ইডি অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, গ্রুপ ‘সি’ পদের জন্য চাকরিপ্রার্থীদের দিতে হতো ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা। অন্য দিকে, তুলনামূলকভাবে নিচু পদ অর্থাৎ গ্রুপ ‘ডি’ চাকরির জন্য দর বরাদ্দ ছিল ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। টাকার বিনিময়ে শুধু ওএমআর শিট (OMR Sheet) জালিয়াতিই করা হয়নি, যোগ্য প্রার্থীদের পিছনে ফেলে অযোগ্যদের ‘র্যাঙ্ক জাম্প’ করিয়ে প্যানেলের প্রথম সারিতে নিয়ে আসা হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগের দুর্নীতি থেকে অন্তত ৬৩০.৪০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল, যার একটি বড় অংশই প্রভাবশালীদের পকেটে গেছে। ইতিপূর্বে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া কোটি কোটি নগদ টাকার পাহাড় যে এই দুর্নীতিরই অংশ, তা চার্জশিটের তথ্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে। নতুন করে এই ‘রেট চার্ট’ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই ফের কোণঠাসা তৃণমূল শিবির। ইডির এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর জামিনে থাকা পার্থ-অর্পিতাদের আইনি রক্ষাকবচ কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার।

