বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

রাজ্যের নয়া শিক্ষাব্যবস্থায় বাদ মোগল, ঢুকছে শিবাজি

প্রকাশিত: ৫ জুন, ২০২৬
রাজ্যের নয়া শিক্ষাব্যবস্থায় বাদ মোগল, ঢুকছে শিবাজি
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী বা ৫০ বছর পর এক আমূল সংস্কার আসতে চলেছে। প্রাক-প্রাথমিক (কেজি) থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর (পিজি) স্তর পর্যন্ত পড়াশোনার পুরো খোলনলচে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন এই শিক্ষানীতিতে জাতীয়তাবাদী ভারতীয় ইতিহাসকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি নির্দেশে শিক্ষাদপ্তর ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করে দিয়েছে। সরকারি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নতুন পাঠক্রম বা সিলেবাস কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।

নতুন সিলেবাসে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটি হতে চলেছে, তা হলো মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসের কাটছাঁট। এতদিন ধরে বাংলার পাঠ্যবইয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসকে যেভাবে বিস্তারিত ও বড়ো করে দেখানো হতো, নতুন পাঠক্রমে তা বাদ পড়তে চলেছে। তার পরিবর্তে ভারতের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় পরাক্রমী হিন্দু বীর এবং শাসকদের গৌরবগাথাকে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নতুন পাঠ্যসূচিতে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে জায়গা পেতে চলেছে কৌটিল্য (চাণক্য), সম্রাট অশোক এবং মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের বীরত্ব ও শাসনকালের ইতিহাস।
নয়া এই শিক্ষাক্রমের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদানকে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা। দেশভাগের অত্যন্ত সংকটময় সময়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে তাঁর যে ঐতিহাসিক অবদান ছিল, তাকে নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের সামনে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হবে। মূলত বাংলার নিজস্ব ইতিহাস এবং ভারতের জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে দেওয়াই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।
শিক্ষাদপ্তর সূত্রে খবর, স্কুল ও উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদা কমিটি গঠন করে দ্রুত নতুন বই লেখার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আমূল পরিবর্তনের পক্ষে সরকারের যুক্তি হলো, এতদিন ধরে শিক্ষার্থীরা যে ইতিহাস পড়ে এসেছে, তাতে ভারতের প্রকৃত সনাতন গৌরব ও আঞ্চলিক বীরদের অবদানকে কিছুটা উপেক্ষাই করা হয়েছিল। নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে চালু হতে চলা এই শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষামহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে সিলেবাস থেকে মুঘল ইতিহাস বাদ দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও।