হট টপিক
বকরি ইদের আগে কড়া হুঁশিয়ারি যোগী আদিত্যনাথের, রাস্তায় নমাজ পড়া চলবে না
প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী ২৮ মে দেশজুড়ে পালিত হবে পবিত্র বকরি ইদ। তবে উৎসবের ঠিক আগেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাস্তায় নমাজ পড়া নিয়ে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন। লখনউয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই উত্তরপ্রদেশের কোনো সাধারণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে নমাজ পড়তে দেওয়া হবে না।রাস্তা তামাশা করার জায়গা নয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কড়া ভাষায় বলেন, রাস্তা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং গাড়ি চলাচলের জন্য, সেখানে ‘তামাশা’ করার বা রাস্তা আটকে রাখার অধিকার কারও নেই। যাঁদের প্রার্থনা করার, তাঁরা নিজেদের নির্দিষ্ট উপাসনালয়ে গিয়ে নমাজ পড়ুন।
তিনি মনে করিয়ে দেন, রাস্তা বন্ধ থাকলে সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী এবং রোগীদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। জায়গা কম হলে ‘শিফটে’ নমাজ পড়ুন, জনসংখ্যা কমান।
কিছু মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে উপাসনালয়ে জায়গার অভাবের যুক্তি দেওয়া হলে, যোগী আদিত্যনাথ তারও একটি দাওয়াই দেন। তিনি বলেন, যদি নমাজ পড়ার জন্য লোক বেশি হয়, তবে সময় ভাগ করে আলাদা আলাদা ‘শিফটে’ নমাজ পড়ুন। তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু রাস্তা আটকানো যাবে না। এর সঙ্গেই তিনি একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সবাইকে দেওয়ার মতো জায়গা যদি আপনাদের ঘরে বা উপাসনালয়ে না থাকে, তবে নিজেদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। যদি এই সমাজ বা ব্যবস্থার মধ্যে থাকতে হয়, তবে এখানকার আইনকানুন মেনেই চলতে হবে।
কথা না শুনলে কড়া ব্যবস্থাউত্তরপ্রদেশে বর্তমানে আইনের শাসন চলছে এবং আইন সবার জন্য সমান—এই বার্তা দিয়ে যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আমরা প্রথমে সবাইকে বুঝিয়ে শান্তিতে নিয়ম মানার অনুরোধ করব। ভালবাসার কথা শুনলে খুব ভালো, আর যদি কেউ শান্তিতে কথা না শোনেন, তবে আইন ভাঙলে আমাদের অন্য পথ বা কঠোর ব্যবস্থা বেছে নিতে হবে।
বকরি ইদের আগে উত্তরপ্রদেশ মুখ্যমন্ত্রীর এই চরম অবস্থান ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, উৎসবের দিন আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

