সর্বশেষ খবর
চোখের সামনে খুন স্বামী-পুত্র-জামাই, ৩২ বছর পর সুবিচার পেলেন সুমিত্রা
প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: নিজের চোখের সামনেই শেষ হয়ে যেতে দেখেছিলেন সংসারের তিন জনকে। বাঁচাতে গিয়ে নিজেও আক্রান্ত হয়েছিলেন, বেঁধে রাখা হয়েছিল গাছের সঙ্গে। অবশেষে দীর্ঘ ৩২ বছরের বুকফাটা যন্ত্রণা আর আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল। উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচের তিন খুনের মামলায় পাঁচ অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বিশেষ আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৪ সালের ৩১ জুলাই, বাহরাইচের চৌওয়াইনপুরওয়া গ্রামে। একটি পুরনো ডাকাতির মামলায় সুমিত্রা দেবীর অন্য এক ছেলে গ্রামের কিছু অপরাধীর নাম পুলিশের কাছে ফাঁস করে দিয়েছিলেন। সেই আক্রোশ আর পুরনো শত্রুতার জেরেই ওই দিন সুমিত্রা দেবীর বাড়িতে লাঠি, বল্লম ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী।
অসহায় সুমিত্রা দেবী যখন তাঁর স্বামী চিরকু, ছেলে সন্তরাম এবং জামাই মায়ারামকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন, তখন হামলাকারীরা তাঁকে একটি বাবলা গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে ফেলে। এরপর তাঁর চোখের সামনেই তিনজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুন করা হয়।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার শুনানির মাঝেই মূল ৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৪ জনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। বাকি ৫ জন—গিরধারী, মহাবীর, বিজয়ী, গরীব এবং রাধেশ্যামের বিরুদ্ধে অবশেষে অকাট্য প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রায় দিল আদালত।
দোষী সাব্যস্ত পাঁচজনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই জরিমানার মোট অর্থের অর্ধেক অংশ সরাসরি ভুক্তভোগী সুমিত্রা দেবীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে অপরাধীদের আরও ছয় মাসের অতিরিক্ত জেল খাটতে হবে। দেরিতে হলেও আদালতের এই রায়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সুমিত্রা দেবীর পরিবারে।

