সর্বশেষ খবর
সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা রুখতে তৎপর বিজিবি
প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নিয়েই ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ এ দেশে ঠাঁই না দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন বা পুশব্যাকের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছিল। সেই আশঙ্কাই সত্যি করে ঈদের ঠিক দু’দিন আগে মঙ্গলবার ভারতের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বেশ কিছু মানুষ বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঈদের আগে গত ২৬ মে মঙ্গলবার ভারতের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় দিয়ে কয়েকজনকে জোর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সীমান্তে মোতায়েন থাকা বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত সতর্ক থাকায় সেই পুশইনের চেষ্টা সম্পূর্ণ রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বাস্তবতায় সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জোরপূর্বক পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর জন্য নিয়মিত মাইকিংও করা হচ্ছে।
বিজিবি কর্মকর্তা কাজী আশিকুর রহমান আরও দাবি করেন যে, গত ২৬ মে ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইনের ওই সর্বশেষ চেষ্টার পর থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আর নতুন করে এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতির কারণে সীমান্তে যে এক ধরণের অঘোষিত চাপ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।

