সর্বশেষ খবর
জল কমতেই মাথাভাঙায় নদীভাঙন চরম, সেচদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মাথাভাঙা: বর্ষা বিদায়ের মুখে কোচবিহারের মাথাভাঙা মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে ব্যাপক নদীভাঙন। মহকুমার প্রধান নদীগুলির জলস্তর যত কমছে, তীরের মাটি ধসে যাওয়ার প্রবণতা ততটাই মারাত্মক রূপ ধারণ করছে। সুটুঙ্গা, মানসাই ও ধরলা নদীর করাল গ্রাসে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি ও বসতবাড়ি। প্রশাসনের ঢিলেমি ও সেচদপ্তরের উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন নদী তীরবর্তী এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীগুলির চরিত্র এমন দাঁড়িয়েছে যে জল বাড়লেও যেমন পাড় ভাঙে, ঠিক তেমনই জল কমতে শুরু করলেও ভাঙন অব্যাহত থাকে। পচাগড়, শিকারপুর ও নয়ারহাট পঞ্চায়েত এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার মুখে। নদী তীরের বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর এই সময়ে ভাঙন রোধে প্রশাসনের তরফে বালির বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলার মতো কিছু অস্থায়ী কাজ করা হলেও, এবার সেচদপ্তরের কোনও হেলদোল দেখা যাচ্ছে না। ফলে চোখের সামনে নিজেদের ভিটেমাটি নদী বক্ষে তলিয়ে যেতে দেখে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
যদিও গ্রামবাসীদের এই উদাসীনতার অভিযোগ পুরোপুরি মেনে নেয়নি সেচদপ্তর। মাথাভাঙা সেচ উপ-বিভাগের এক আধিকারিক জানান, দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা ইতিমধ্যেই মহকুমার সমস্ত ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলি পরিদর্শন করে চিহ্নিত করেছেন। নদীবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) ও আর্থিক বরাদ্দ চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। সেচদপ্তরের আশ্বাস, বর্ষা পুরোপুরি শেষ হলেই নদীগুলির জলস্তর আরও কমবে। তখন চিহ্নিত এলাকাগুলিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পাকা বোল্ডার ও জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ সংস্কার এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করা হবে।

